দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতি

আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৬ ১১:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৮-২০২৬ ১১:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন
খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একদিনেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ২২৯ মেগাওয়াট। রাত-দিন মিলে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার লুকোচুরি চলছে। প্রচণ্ড গরম আর মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। 

বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট মোকাবিলা করতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকছে না।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টায় ওজোপাডিকো এলাকায় মোট ৮০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে একদিনেই ২২৯ মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু খুলনা জোনেই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৫ মেগাওয়াটে, যেখানে খুলনা জেলা ও নগরী এলাকাতেই বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি ৬০ মেগাওয়াট।

এর আগে, গত সোমবার ৭৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৬১৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১৫১ মেগাওয়াট। একদিনের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের।

স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন গৃহিণী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা ও যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।

নগরীর খালিশপুরের বাসিন্দা সোহাগ আসিফ বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একপ্রকার বলা চলে, যাচ্ছে-আসছে। ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতে এবং ভোরেও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ঘুমের ঘাটতি হচ্ছে। সঙ্গে বেড়েছে মশার উপদ্রবও। সবমিলিয়ে খুব বেশি দুর্ভোগে আছি আমরা।”

নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার শিক্ষার্থী নাজিয়া সুলতানা বলেন, “দিনের মধ্যে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়ালেখায় অনেকটা ব্যাঘাত ঘটেছে। নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্ট ও বিভিন্ন একাডেমিক কাজ করতে হচ্ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এসব কাজ ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না।” 

নগরীর তেঁতুলতলা এলাকার শিক্ষার্থী উম্মে রায়হানা জাহান বলেন, “কথায় আছে- বিদ্যুৎ এখন যায় না, বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে। বর্তমানে বিদ্যুতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা যেন লুকোচুরি খেলার মতো। বিদ্যুৎ আসার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আবার চলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়ালেখা দুটোই ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে রাতে নিয়মিত পড়ালেখা- কোনোটিই ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, খাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় ওয়াশরুমে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না।” 

এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড- ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।” খুব শিগগিরি এই ঘাটতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুতের সংকট থেকে সমাধান মিলবে তার সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :