বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৩:১৯:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৩:৫২:১১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে টিনের নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীতে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে সরকারপ্রধান ঘরের চাবি দেন বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনে সরকারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছেন।

“তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। তিনি সেখান একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।”

এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

গেল মাসের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছি। বন্যায় শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন সমাবেশস্থলে জনতার ঢল নামে। উপজেলার বাঁশখালী পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিলে যোগ দেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বেলা ১২টার আগেই বিশালাকার প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানা যায়, বাঁশখালী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে নতুন নির্মিত ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০টি করে মোট ১০০টি অসচ্ছল পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ ও পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় ঘর তৈরিতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।

চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বাঁশখালীর দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মসূচি শেষে দিনভর নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বাঁশখালী থেকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে যাবেন ফটিকছড়িতে। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

ফটিকছড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী যাবেন হাটহাজারীতে। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় পরিদর্শন ও সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন। পরবর্তীতে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মধ্যে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা (পরিবারপ্রতি ১ লাখ টাকা) প্রদান করবেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান বিতরণ করবেন।

সবশেষ জেলা ও উপজেলার কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীতে পৌঁছাবেন। সেখানে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও তৃণমূল প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন তিনি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :