​ইন্টারনেট স্লো করতে পলককে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:০৬:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:২১:৫৩ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কাদের ও পলকের এমন একটি ফোনালাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ কল রেকর্ডটি জমা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক চলাকালে এ ফোনালাপ উপস্থাপন করা হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

দাখিল করা ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘নেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ পরবর্তী কথোপকথনেও পলক জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কাদের ও পলকের এই কথোপকথন মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ফোনালাপটির অনুলিপি হলো—

পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি।

কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও।

পলক: জি।

কাদের: ইন্টারনেট।

পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?

কাদের: নিয়ে নাও।

পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।

কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...

পলক: হ্যাঁ, একটু ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...

কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।

পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি ও উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ মামলায় মোট সাতজন আসামি রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই পলাতক।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :