ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে ড্রেজার থেকে স্থানীয়দের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগের পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা এতে অংশ নেন। পরে প্রশাসন, পুলিশ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশুগঞ্জের নদী এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেহেন্দিপুর এলাকায় বালুমহাল ইজারা নেওয়া হলেও ইজারার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে।
তাদের অভিযোগ, ইজারাকৃত বালুমহাল কিশোরগঞ্জ জেলার মির্জাপুর মৌজায় হলেও ড্রেজারগুলো আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর মৌজার নদীতীর থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করে বালু উত্তোলন করছে। এতে মেঘনার তীরবর্তী চর সোনারামপুর, দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার কৃষিজমি ও বসতভিটা মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আশুগঞ্জ উপজেলার নদীসীমা প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, পিডিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমনকি আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে দুর্গাপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
শনিবার সকালে আশুগঞ্জ প্রান্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়রা ড্রেজারগুলোকে বাধা দিতে গেলে সেখানে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নদী ও জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ইজারাকৃত এলাকার বাইরে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, বাহাদুরপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু কৃষিজমি ও বসতভিটাই নয়, আশুগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পরবে।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম।
পরে সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশুগঞ্জের নদী এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে তারা আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্রেজার অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আশুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা এতে অংশ নেন। পরে প্রশাসন, পুলিশ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশুগঞ্জের নদী এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেহেন্দিপুর এলাকায় বালুমহাল ইজারা নেওয়া হলেও ইজারার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে।
তাদের অভিযোগ, ইজারাকৃত বালুমহাল কিশোরগঞ্জ জেলার মির্জাপুর মৌজায় হলেও ড্রেজারগুলো আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর মৌজার নদীতীর থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করে বালু উত্তোলন করছে। এতে মেঘনার তীরবর্তী চর সোনারামপুর, দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার কৃষিজমি ও বসতভিটা মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আশুগঞ্জ উপজেলার নদীসীমা প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, পিডিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমনকি আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে দুর্গাপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
শনিবার সকালে আশুগঞ্জ প্রান্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়রা ড্রেজারগুলোকে বাধা দিতে গেলে সেখানে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নদী ও জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ইজারাকৃত এলাকার বাইরে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, বাহাদুরপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু কৃষিজমি ও বসতভিটাই নয়, আশুগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পরবে।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম।
পরে সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশুগঞ্জের নদী এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে তারা আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্রেজার অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আশুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন