শিল্প-কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) প্রতিষ্ঠানের হাতে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইপলাইন রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে নতুন করে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন : এ মাল্টি-কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানিব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রভিত্তিক জাতীয় গ্রিড এখনো দেশের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা হলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং ভেহিকল-টু-গ্রিড (ভি২জি) প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা (ডিইআর) দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। তবে আইইইএফএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিল্প গ্রুপসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে এ সক্ষমতা ইতিমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০ দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে।
আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক ও প্রতিবেদনের সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের সেচ খাত এখনো ব্যাপকভাবে ডিজেলনির্ভর। ডিজেলচালিত সেচের এক-তৃতীয়াংশ সৌরচালিত করা গেলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়, নেট মিটারিং নীতিমালা ও স্বল্পসুদে ঋণের সুবিধা থাকলেও গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের সৌরচালিত সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকার ছোট প্রকল্পগুলো কঠোর শর্তের কারণে শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো বাংলাদেশেও শুল্ক ছাড় ও অন্যান্য সরকারি প্রণোদনা দিলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হতে পারে।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশল অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। এ লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতির সুপারিশ করেছে আইইইএফএ।
এ ছাড়া নেট মিটারিং সংযোগের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, অনলাইন আবেদন পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে নতুন করে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন : এ মাল্টি-কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানিব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রভিত্তিক জাতীয় গ্রিড এখনো দেশের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা হলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং ভেহিকল-টু-গ্রিড (ভি২জি) প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা (ডিইআর) দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। তবে আইইইএফএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিল্প গ্রুপসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে এ সক্ষমতা ইতিমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০ দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে।
আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক ও প্রতিবেদনের সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের সেচ খাত এখনো ব্যাপকভাবে ডিজেলনির্ভর। ডিজেলচালিত সেচের এক-তৃতীয়াংশ সৌরচালিত করা গেলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়, নেট মিটারিং নীতিমালা ও স্বল্পসুদে ঋণের সুবিধা থাকলেও গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের সৌরচালিত সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকার ছোট প্রকল্পগুলো কঠোর শর্তের কারণে শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো বাংলাদেশেও শুল্ক ছাড় ও অন্যান্য সরকারি প্রণোদনা দিলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হতে পারে।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশল অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। এ লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতির সুপারিশ করেছে আইইইএফএ।
এ ছাড়া নেট মিটারিং সংযোগের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, অনলাইন আবেদন পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন