শুধু জনপ্রিয়তা অর্জন বা চোখে পড়ার মতো অবকাঠামো নির্মাণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করবে-এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের অর্থ অত্যন্ত মূল্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পগুলো সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সভায় দুই বিভাগের ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু দৃশ্যমান স্থাপনা নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করলে হবে না, দেখতে হবে এসব প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য কী হবে, সেই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা মাথায় রেখে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস অথবা একই ধরনের প্রকল্প একীভূত করে কাজের গতি বাড়াতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, কাজের মান, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে টেকসই এবং সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এসব প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ এমন হতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগগুলো আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তদারকি, মূল্যায়ন ও ফলাফল পরিমাপ আরও সহজ হবে। পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পল্লী উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও মান বাড়াতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের অর্থ অত্যন্ত মূল্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পগুলো সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সভায় দুই বিভাগের ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু দৃশ্যমান স্থাপনা নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করলে হবে না, দেখতে হবে এসব প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য কী হবে, সেই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা মাথায় রেখে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস অথবা একই ধরনের প্রকল্প একীভূত করে কাজের গতি বাড়াতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, কাজের মান, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে টেকসই এবং সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এসব প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ এমন হতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগগুলো আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তদারকি, মূল্যায়ন ও ফলাফল পরিমাপ আরও সহজ হবে। পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পল্লী উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও মান বাড়াতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে