​জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

আপলোড সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০৫:২৮:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০৫:২৮:৪১ অপরাহ্ন
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেবে না। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে সে বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছে দলটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাস্তবিক অর্থেই সেই জোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এরপরও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার বা প্রচারণায় দলটির নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার করা যাবে না। পরে রংপুরে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে দলের নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির পর তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতেই খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

জোট ছাড়ার বিষয়ে শনিবার সকালে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ১১ দলের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং তাদের দলও সেই সমঝোতার অংশ ছিল। নির্বাচন শেষে জোটের কয়েকটি কর্মসূচিতেও তারা সীমিতভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই ১১ দলীয় কোনো কার্যক্রমে তারা যুক্ত নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমঝোতা আর অব্যাহত রাখার ইচ্ছাও তাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে তাদের মতের মিল রয়েছে। তবে এসব বিষয় বাস্তবায়নে এখন থেকে খেলাফত মজলিস নিজস্ব কর্মসূচি ও সাংগঠনিক উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথকভাবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে জাতীয় প্রয়োজন বা বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্ন সামনে এলে তখন বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি কওমি ধারার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামী দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে খেলাফত আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এবার একই সিদ্ধান্ত নিল খেলাফত মজলিসও। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গেই রয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :