রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি শিগগিরই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একটি কথিত গোপন ফোনালাপ সামনে আসার পর এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করতে চান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সেখানেই তিনি হৃদরোগের চিকিৎসা ও বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি তার এই ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠজনদের অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দায়িত্বে থাকা শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই কারণ নয়। তার মতে, বিষয়টি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে গত ১০ জুলাই প্রকাশিত রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও কিছু তৎপরতা নজরদারিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিএনপির ওই নেতার মতে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে দেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে- এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করবেন কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শেষে মেয়াদের মাঝপথেই দায়িত্ব ছাড়তে চান। একই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’। সূত্রটির ভাষ্য, ‘তিনি আজ বা কাল দায়িত্বে থাকবেন না- এটাই স্বাভাবিক বাস্তবতা।’
একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি অতীতের কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন- এমন তথ্য সরকারের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা বর্তমান সরকার আর সমীচীন মনে করছে না বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে একই সূত্র জানায়, আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করতে চান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সেখানেই তিনি হৃদরোগের চিকিৎসা ও বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি তার এই ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠজনদের অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দায়িত্বে থাকা শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই কারণ নয়। তার মতে, বিষয়টি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে গত ১০ জুলাই প্রকাশিত রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও কিছু তৎপরতা নজরদারিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিএনপির ওই নেতার মতে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে দেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে- এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করবেন কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শেষে মেয়াদের মাঝপথেই দায়িত্ব ছাড়তে চান। একই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’। সূত্রটির ভাষ্য, ‘তিনি আজ বা কাল দায়িত্বে থাকবেন না- এটাই স্বাভাবিক বাস্তবতা।’
একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি অতীতের কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন- এমন তথ্য সরকারের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা বর্তমান সরকার আর সমীচীন মনে করছে না বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে একই সূত্র জানায়, আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে