ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জনগণের টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যুদ্ধে অভিজ্ঞ জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি।
প্রথমে গুঞ্জন ছিল, ফেদোরভকে সরানোর পেছনে তার সঙ্গে সিরস্কির বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। পরে সেই ধারণাই সত্য বলে নিশ্চিত হয়। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন গতি আনা, সশস্ত্র বাহিনীতে পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের জন্য ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।
অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী সিরস্কিকে ইউক্রেনের অনেকেই সোভিয়েত ধাঁচের সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দেখেন। কারণ সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে অনাগ্রহী ছিলেন তিনি।
এদিকে সেনাপ্রধান হিসেবে ওলেক্সান্দর সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় ও যুদ্ধের অভিজ্ঞ জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি। ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে দ্রাপাতি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের দেশ রক্ষা করছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি পূর্ণ মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব।’
তিনি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য সিরস্কিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই বাহিনীতেই বড় হয়েছি।’
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিরস্কিকে তার সামরিক অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে রাজধানী কিয়েভ সফলভাবে রক্ষায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
গত সপ্তাহে ফেদোরভের স্থলাভিষিক্ত হন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খমারা। জেলেনস্কি বলেন, ‘সব সিদ্ধান্ত আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।’
এদিকে ফেদোরভ নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় দ্রাপাতিকে অভিনন্দন জানান। তিনি এ নিয়োগকে ‘স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য মুক্ত মানুষের লড়াইয়ে নতুন আশা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি ছিল ‘পরিবর্তনের সেই কণ্ঠস্বর, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।’
ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। এর আগে ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গঠন করেন। তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালাত।
পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে সফল অর্থসংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধে ‘গেমিফিকেশন’-এর উপাদান যুক্ত করেন। এর মাধ্যমে রুশ সামরিক সম্পদে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সেনা ইউনিটগুলোকে ক্রেডিট দেয়ার একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
আর মানুষের কাছে জনপ্রিয় ফেদোরভকে সরিয়ে দেয়ার পর টানা ছয় দিন দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এতে সিরস্কিকে বরখাস্ত করার জন্য জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জেলেনস্কি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তুলনামূলক তরুণ ও উদ্ভাবনী চিন্তার সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া দ্রাপাতি ও ফেদোরভকে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেও মনে করা হয়। একইসঙ্গে দ্রাপাতির প্রতি ফেদোরভের প্রকাশ্য সমর্থন গত এক সপ্তাহের রাজনৈতিক সংকট প্রশমনে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রথমে গুঞ্জন ছিল, ফেদোরভকে সরানোর পেছনে তার সঙ্গে সিরস্কির বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। পরে সেই ধারণাই সত্য বলে নিশ্চিত হয়। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন গতি আনা, সশস্ত্র বাহিনীতে পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের জন্য ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।
অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী সিরস্কিকে ইউক্রেনের অনেকেই সোভিয়েত ধাঁচের সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দেখেন। কারণ সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে অনাগ্রহী ছিলেন তিনি।
এদিকে সেনাপ্রধান হিসেবে ওলেক্সান্দর সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় ও যুদ্ধের অভিজ্ঞ জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতি। ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে দ্রাপাতি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের দেশ রক্ষা করছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি পূর্ণ মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব।’
তিনি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য সিরস্কিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই বাহিনীতেই বড় হয়েছি।’
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিরস্কিকে তার সামরিক অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে রাজধানী কিয়েভ সফলভাবে রক্ষায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
গত সপ্তাহে ফেদোরভের স্থলাভিষিক্ত হন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খমারা। জেলেনস্কি বলেন, ‘সব সিদ্ধান্ত আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।’
এদিকে ফেদোরভ নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় দ্রাপাতিকে অভিনন্দন জানান। তিনি এ নিয়োগকে ‘স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য মুক্ত মানুষের লড়াইয়ে নতুন আশা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি ছিল ‘পরিবর্তনের সেই কণ্ঠস্বর, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।’
ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। এর আগে ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গঠন করেন। তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালাত।
পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে সফল অর্থসংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধে ‘গেমিফিকেশন’-এর উপাদান যুক্ত করেন। এর মাধ্যমে রুশ সামরিক সম্পদে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সেনা ইউনিটগুলোকে ক্রেডিট দেয়ার একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
আর মানুষের কাছে জনপ্রিয় ফেদোরভকে সরিয়ে দেয়ার পর টানা ছয় দিন দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এতে সিরস্কিকে বরখাস্ত করার জন্য জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জেলেনস্কি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তুলনামূলক তরুণ ও উদ্ভাবনী চিন্তার সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া দ্রাপাতি ও ফেদোরভকে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেও মনে করা হয়। একইসঙ্গে দ্রাপাতির প্রতি ফেদোরভের প্রকাশ্য সমর্থন গত এক সপ্তাহের রাজনৈতিক সংকট প্রশমনে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন