বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতার লড়াইয়ে বড় ধরনের এক পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বের বহু দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। ওয়াশিংটনভিত্তিক খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে চীনের পক্ষে জনসমর্থন এখন এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, পক্ষান্তরে ক্রমশ কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা।
৩৬টি দেশের প্রায় ৪২ হাজার মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ২৫টি দেশের মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি তাদের বেশি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতি জনমত ট্র্যাক করা শুরু করার পর থেকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের ইতিহাসে এটিই প্রথম এমন ঘটনা। বিশেষ করে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে জনমত ব্যাপকভাবে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। বিপরীতে মাত্র ছয়টি দেশ যার মধ্যে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরায়েলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর মিত্ররা রয়েছে; তারা এখনো ওয়াশিংটনকে বেশি পছন্দ করে। ভৌগোলিক বিচারে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেই চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক এবং নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। যেমন পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের পক্ষে কথা বলেছেন, অন্যদিকে জাপানের মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ বেইজিংকে সমর্থন জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক রাজনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর সাধারণ মানুষের কতটা আস্থা রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখেছে এই সংস্থাটি। ফলাফলে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতিই সামগ্রিক আস্থা তুলনামূলক কম হলেও ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিং অনেক এগিয়ে আছেন। বহু দেশের মানুষই ট্রাম্পের তুলনায় জিনপিংয়ের ওপর বেশি ভরসা রাখছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ চরমপন্থী মতামত দিলেও শি জিনপিংয়ের ব্যাপারে তাদের মনোভাব তুলনামূলক নমনীয়।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে এখনো মার্কিন সরকারকে চীনের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন বিশ্ববাসী, তবে সেই ব্যবধানও এখন আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নেতিবাচক প্রবণতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাম এসেছে সবার আগে। জরিপে অংশগ্রহণকারী মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ মানুষের মতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করে, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নীতি ও বৈদেশিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক অস্থিরতা, সামরিক শক্তির ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ঠিক এই সময়ে চীনের সুনির্দিষ্ট ও স্থিতিশীল নীতি এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেইজিংয়ের ইমেজ বাড়ানোর প্রচেষ্টা তাদের এই জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে চীনের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যেও শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত রেটিং কিছুটা কম থাকার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাসী চীনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ইতিবাচক দিকগুলোকে দেশের সামগ্রিক অর্জনের অংশ হিসেবে দেখলেও জিনপিংয়ের কঠোর কর্তৃত্ববাদী শাসননীতি ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের মতো বিষয়গুলোকে তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
৩৬টি দেশের প্রায় ৪২ হাজার মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ২৫টি দেশের মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি তাদের বেশি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর প্রতি জনমত ট্র্যাক করা শুরু করার পর থেকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের ইতিহাসে এটিই প্রথম এমন ঘটনা। বিশেষ করে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে জনমত ব্যাপকভাবে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। বিপরীতে মাত্র ছয়টি দেশ যার মধ্যে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরায়েলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর মিত্ররা রয়েছে; তারা এখনো ওয়াশিংটনকে বেশি পছন্দ করে। ভৌগোলিক বিচারে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেই চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক এবং নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। যেমন পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের পক্ষে কথা বলেছেন, অন্যদিকে জাপানের মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ বেইজিংকে সমর্থন জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক রাজনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর সাধারণ মানুষের কতটা আস্থা রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখেছে এই সংস্থাটি। ফলাফলে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতিই সামগ্রিক আস্থা তুলনামূলক কম হলেও ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিং অনেক এগিয়ে আছেন। বহু দেশের মানুষই ট্রাম্পের তুলনায় জিনপিংয়ের ওপর বেশি ভরসা রাখছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ চরমপন্থী মতামত দিলেও শি জিনপিংয়ের ব্যাপারে তাদের মনোভাব তুলনামূলক নমনীয়।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে এখনো মার্কিন সরকারকে চীনের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন বিশ্ববাসী, তবে সেই ব্যবধানও এখন আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নেতিবাচক প্রবণতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাম এসেছে সবার আগে। জরিপে অংশগ্রহণকারী মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ মানুষের মতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করে, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নীতি ও বৈদেশিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক অস্থিরতা, সামরিক শক্তির ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ঠিক এই সময়ে চীনের সুনির্দিষ্ট ও স্থিতিশীল নীতি এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেইজিংয়ের ইমেজ বাড়ানোর প্রচেষ্টা তাদের এই জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে চীনের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যেও শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত রেটিং কিছুটা কম থাকার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাসী চীনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ইতিবাচক দিকগুলোকে দেশের সামগ্রিক অর্জনের অংশ হিসেবে দেখলেও জিনপিংয়ের কঠোর কর্তৃত্ববাদী শাসননীতি ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের মতো বিষয়গুলোকে তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে