​শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৬:০৪:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৬:০৫:০৪ অপরাহ্ন
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই; দেশে ফিরিয়ে আনার পর প্রথমেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পরে আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে এবং আপিলের কোনো অধিকার থাকলে তা আদালত নির্ধারণ করবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে স্বৈরাচারী হাসিনা একটি দেশে, তার অবশ্য নিজদেশে, আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ওখান থেকে বড় বড় কথা বলছে। অনেকে বলছে, ‘মুর্দা কাফন পরে কথা বলছে’, সেটা জায়েজ নয়। সে বলছে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। আমরা তো তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পত্র দেওয়া হয়েছে, আমরা তাগাদা পত্র দিয়েছি। আমরা চাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার রায় কার্যকর করতে। 

তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টে স্পষ্টভাবে বলেছি, তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে প্রথমেই গ্রেফতার করা হবে দেশে ফিরিয়ে এনে। এরপর রায় কার্যকর করা হবে। যদি তার আপিল করার কোনো অধিকার থাকে, সেটা আইন-আদালত দেখবে।’

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা এসব অপরাধে জড়িত, তাদের সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইসিটি আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিচারের আওতায় আনা যাবে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তি ও সংগঠন— উভয়েরই গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার করা সম্ভব। তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হওয়া উচিত।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, যে সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণহত্যা চালিয়েছে, সেই সংগঠনকেও এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনও অপরাধের জন্য জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে গণহত্যা চালিয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য দলটির কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে এমন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে না পারে।

বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই ছিল সমগ্র জনগণের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা অটুট রেখে শহিদদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :