বন্যার কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) বেলা দেড়টার পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস। এর আগে দুপুরে প্রথমে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ গন্তব্যের উদ্দেশে যায়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের পর রোববার দুপুর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইনটি চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। এরপর দোহাজারী পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ট্রেন চালুর আগে দুপুরে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। তার সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মো. সুবক্তগীন সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের পরও গত মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠেছে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তদারকি করা হয়। গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেললাইন পরিদর্শন করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়েছে। শনিবার দিন-রাত কাজ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এরপর ট্রেন চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর আগে জানালিহাট রেলস্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে আনা হয়। রেললাইন এখন চলাচলের জন্য নিরাপদ।
চট্টগ্রামে ৪ জুলাই ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানিতে ডুবে যায়। এ সময় রেলপথ দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে পানি নামলেও শমসের পাড়ায় পানি জমে ছিল। রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়ে। পরে তা ষোলশহর রেলস্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়।
কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ও ঢাকা থেকে দুই জোড়া চলাচল করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এতদিন ট্রেন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা।
ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাইন উদ্দিন মামুন জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জান আলী হাট স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
জান আলী হাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, সকালেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ দুপুর ২টার দিকে একই অংশ সফলভাবে অতিক্রম করে কক্সবাজারের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গিয়েছিল। তবে রেললাইন বাঁকা বা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাথর পুনর্বিন্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি উঁচু করার কাজ শেষ করার পর আজ থেকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের পর রোববার দুপুর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইনটি চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। এরপর দোহাজারী পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ট্রেন চালুর আগে দুপুরে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। তার সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মো. সুবক্তগীন সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের পরও গত মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠেছে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তদারকি করা হয়। গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেললাইন পরিদর্শন করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়েছে। শনিবার দিন-রাত কাজ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এরপর ট্রেন চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর আগে জানালিহাট রেলস্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে আনা হয়। রেললাইন এখন চলাচলের জন্য নিরাপদ।
চট্টগ্রামে ৪ জুলাই ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানিতে ডুবে যায়। এ সময় রেলপথ দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে পানি নামলেও শমসের পাড়ায় পানি জমে ছিল। রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়ে। পরে তা ষোলশহর রেলস্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়।
কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ও ঢাকা থেকে দুই জোড়া চলাচল করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এতদিন ট্রেন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা।
ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাইন উদ্দিন মামুন জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জান আলী হাট স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
জান আলী হাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, সকালেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ দুপুর ২টার দিকে একই অংশ সফলভাবে অতিক্রম করে কক্সবাজারের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গিয়েছিল। তবে রেললাইন বাঁকা বা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাথর পুনর্বিন্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি উঁচু করার কাজ শেষ করার পর আজ থেকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে