জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচল সচল রাখতে চলছে লড়াই

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় ট্রাফিক

আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৩:৩২:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৩:৩২:৪০ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে গুলশান, উত্তরা, রামপুরা, মতিঝিল, তেজগাও, ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন সড়ক। রোববার (১২ জুলাই) সকালে এই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে অফিসগামী মানুষেরা ছুটেছেন। তবে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোর থেকে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা অফিসগামী লোকজনকে স্বাচ্ছন্দ দিতে মাঠে কাজ করছেন। তারা গায়ে রেইন কোট ও গাম বুট পরে বৃষ্টির মধ্যেই ডিউটি করছেন। 

ধানমন্ডি, গুলশান, রামপুরা ও উত্তরা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকার রাস্তাঘাটে এখন হাঁটু পানি। বিশেষ করে উত্তরার বিভিন্ন সড়ক, গুলশানের স্টেডিয়ামের সামনের সড়ক ও ধানমন্ডির ২৭ নম্বরের সামনের সড়কে পানি জমে আছে। পানিতে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে। জলাবদ্ধতায় কোনো সিএনজি বা গাড়ি আটকে গেলে ছুটে গিয়ে ধাক্কা মেরে তুলে দিচ্ছেন ট্রাফিকের সদস্যরা। ভোর থেকেই তারা পুরো শহরে কাজ করছেন। 

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের এসি আসলাম সাগর বলেন, বৃষ্টি হলে সাধারণত মানিকমিয়া এভিনিউ ও ধানমন্ডি ২৭ প্রগতি স্মরণি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। আজ প্রায় হাঁটু পানি জমেছে। এই সময়গুলোতে আমাদের দুই থেকে তিনজন সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টর সেখানে চলে যান এবং গাড়িগুলোকে নির্দেশনা দেন। রাস্তায় জমে থাকা বেশি পানিতে গাড়িগুলো মুভ না করে যাতে কম পানির দিকে মুভ করে সেজন্য তারা নির্দেশনা দেন। বাসগুলো তো হাঁটু পানিতে চলাচল করতে পারে, কিন্তু সিএনজি বা প্রাইভেটকার তো নামতে পারে না। তখন আমাদের সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টররা রেইনকোট ও গাম বুট পরে রাস্তায় নেমে তাদের নির্দেশনা দেন।’   

তিনি আরও বলেন, আজও মানিকমিয়া ও ধানমন্ডির পূর্ব পর্যন্ত চারজন সার্জেন্ট ও একজন ইন্সপেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল এ কাজগুলো করছে। যাতে গাড়ির চলাচলের প্রবাহটা চলমান থাকে। এছাড়া আসাদগেটেও একই চিত্র। যদিও সেখানে পানি কম। অন্যদিকে ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের সামনে ঢালু হওয়ার কারণে সেখানে আজ কোমর পর্যন্ত পানি। এই অবস্থায় আমাদের ট্রাফিক বিভাগ সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে এখন অবধি কাজ করে যাচ্ছে। 

এছাড়া টানা ভারী বর্ষণের ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশসহ বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেট এবং মহানগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানবাহনের চলাচল ধীরগতির রয়েছে এবং কিছু স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমে আসা যানবাহন এবং নিচের সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্ক সংলগ্ন সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ধীরগতির হচ্ছে এবং সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক গুলশান ডিভিশনের (ডিএমপি) ট্রাফিক সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এই পরিরিস্থিতিতে সকল মোটরযান চালক ও পথচারীদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার, জলাবদ্ধ এলাকায় ধীরগতিতে যানবাহন চালানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা সম্ভব হলে তা অনুসরণ, ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাফিক গুলশান বিভাগ।

ট্রাফিফের গুলশান বিভাগের এডিসি জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রাফিক গুলশান বিভাগের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকলকে ধৈর্যধারণ করার অনুরোধ করা হলো।

রামপুরা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামপুরা আবুল হোটেল সড়কটিতে বৃষ্টির পরিস্থিতি ভালো। এ সড়কে পানি কম থাকায় যানবাহন সহজে চলাচল করছে। কিন্তু বনশ্রী ডেমরা সড়কে হাঁটু পানিতে যানবাহনগুলো বিপাকে পড়ছে। তাদের প্রায় সময় ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা গিয়ে নানা সহায়তা করছেন। 

রামপুরা জোনের ট্রাফিকের এসি একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা সকাল থেকে কাজ করছি। ডেমরা সড়কে বেশি পানি থাকায় গাড়িগুলো মাঝে মাঝে আটকে যাচ্ছে। এতে রামপুরা থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত যেতে যানবাহনগুলোর বেগ পেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবকি করতে আমাদের সদস্যরা রাস্তায় কাজ করছেন। 

উত্তরা বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়কের স্কলাসটিকা স্কুলের সামনের সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক, আশকোনা সড়ক, জসিম উদ্দিন ক্রসিং, ইনকামিং, কসাইবাড়ি সড়ক ও কাওলা সড়কে পানি জমেছে। 

ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উত্তরার এডিসি রুবেল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো চলতে সমস্যায় পড়ছে। তবে আমাদের ট্রাফিকের সদস্যরা রাস্তায় থেকে কাজ করছেন। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :