পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের ২৯ ইউনিয়ন প্লাবিত

আপলোড সময় : ১১-০৭-২০২৬ ০৩:৫৩:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৭-২০২৬ ০৩:৫৩:০৩ অপরাহ্ন
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার ২৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বন্যার পানি আরও বাড়তে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ছয়দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে রাতভর বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন করে আরও নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও সড়কে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, বনরূপাপাড়া, কালাঘাটা, মেম্বারপাড়া, পুলিশ সুপারের বাসভবন, কসাইপাড়াসহ জেলার প্রায় ২৯ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজারের ও বেশি দুর্যোগ কবলিত জনগণ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে বন্যার পানিতে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়ক, লামা-আলীকদম সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি সড়কের কিছু অংশ প্লাবিত ও পাহাড় ধসের কারণে সাধারণ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৫৪ টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নতুন করে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়াও ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারেও বলে জানান তিনি।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৫.৯০ এবং ১১.৪১ উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বুলবুল আকতার সেতু বলেন, বন্যায় জেলার ২৯টি ইউনিয়ন কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। যার মধ্যে বান্দরবান সদর, লামা ও আলীকদম উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়ন অতিমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ২২০ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬০০ এর বেশি দুর্যোগ কবলিত জনগণ আশ্রয় নিয়েছেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :