ইরানে একাধিক বিস্ফোরণ, নতুন হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ১২:২৫:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ১২:২৫:৩৭ অপরাহ্ন
ইরানের বিভিন্ন শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা নতুন কোনো হামলায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। খবর আল-জাজিরার।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শেষ রাতের দিকে বুশেহর (যেখানে ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র অবস্থিত) এবং এর কাছের শহর চোগাদাকের আশেপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কোনারকেও আরো তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এর পরপরই, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আল-জাজিরাকে জানিয়েছে যে, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে কোনো হামলা চালায়নি।

গত মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে সম্মত হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আরও হুমকির মুখে পড়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সি বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি।

বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা-কে জানিয়েছেন, শহরের বিস্ফোরণটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ঘটেছে।

জাহানিয়ান আরো যোগ করেন, বুশেহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক সদর দপ্তরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।

এদিকে, ইরানে এই বিস্ফোরণের খবরের পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনে কথা হয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ ও দুই দেশের সামরিক সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু হুংকার দিয়ে বলেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে।” একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমান উপকূলের কাছাকাছি রুট ব্যবহার করা কাতার ও সৌদি আরবের বেশ কিছু জাহাজে হামলা চালায় ইরান। ইরানের দাবি, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের উপকূলের পাশ দিয়েই যেতে হবে।

সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করতে চান। অন্যদিকে ইরান এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নয় যা এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিতে পারে।

জাহাজে হামলার ঘটনায় ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করে বলেন যে, সমঝোতা স্মারক ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর থেকে পিছু হটেনি।

ট্রাম্প ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে ছাড়ও প্রত্যাহার করে নিয়েছে- যা ইরানের অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তি।

যদিও এটিই তাদের মধ্যে প্রথম দফা গোলাগুলি নয়, তবে আশঙ্কা বাড়ছে যে উভয় দেশই হামলা আরো জোরদার করতে পারে, যা এই অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন কর্মসূচির জন্য এই আলোচনা স্থগিত করা হয়। তবে এই সর্বশেষ হামলার পর আগামী সোমবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনা আবার শুরু হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :