রাজধানী ঢাকা থেকে কলাপাড়াগামী নদীপথে চলাচলকারী দোতলা লঞ্চের সবচেয়ে দীর্ঘতম নৌপথ হচ্ছে ঢাকা-কলাপাড়া। লঞ্চমালিক ও স্টাফদের কাছে এই পথটি ছিল তাঁদের কাঙ্ক্ষিত নৌপথ। লঞ্চে যাত্রী চলাচল করত ভরপুর। এখনো এইপথে লঞ্চ চলাচল সচল রয়েছে; তবে আগের সেই জৌলুস নেই। সময় সাশ্রয়ের কারণে সড়কপথে উন্নততর ও দ্রতগামী বাসচলাচলের কারণে যাত্রীদের নৌপথে চলাচলের আগ্রহ অনেকটা কমেছে। বিশেষ করে, পদ্মাসেতু চালুর পরে লঞ্চ যাত্রী কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।
তারপরও এই নৌপথের দোতলা লঞ্চগুলো এখনো সচল রয়েছে। তবে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক নয়। মালিকদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত। এক সময়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটি পরেরদিন সকালে কলাপাড়ায় পৌছাতো। আর এখন পরের দিন দুপুরে পৌছাচ্ছে। দীর্ঘসময় লঞ্চে থাকার অসহনীয় ভোগান্তির পরও উপকূলীয় সাগরমোহনা ঘেঁষা চরাঞ্চলের মানুষ এখনো দীর্ঘতম এই নৌপথে ঢাকায় আসা-যাওয়া করছেন।
প্রতিদিন ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় ছেড়ে যাওয়া একটি করে দোতলা লঞ্চ সর্বোচ্চ দীর্ঘতম এই পথে চলাচল করে আসছে। সন্ধ্যায় ছেড়ে গেলেও এটি কলাপাড়া (খেপুপাড়া) পৌছে পরেরদিন দুপুরে। ১৭-১৮ ঘন্টা লেগে যায়। যেটি ইচ্ছা করলে সকালে কলাপাড়ায় পৌছানোর সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষের খামখেয়ালিপনায় যাত্রীদের ৫-৬ ঘন্টা সময় অতিরিক্ত লঞ্চে থাকতে হয়। গন্তব্যে পৌছাতে মাত্রাতিরিক্ত সময় লাগার কারণে স্বাচ্ছন্দময় নদীপথের ভ্রমণ ক্রমশ মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে গেছে। নইলে নদীপথের এই লঞ্চ চলাচলের পথটি কলাপাড়া কিংবা কুয়াকাটাগামী পর্যটকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহনে পরিচিতি পেত। কারণ সবচেয়ে কম ঝুকিপূর্ণ এবং স্বাচ্ছন্দের পারিবারিক চলাচলের রুট হচ্ছে দোতলা লঞ্চে চলাচলের এই নৌরুট। যেটি বাসের ক্ষেত্রে বেশি ঝুকিপূর্ণ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের গত মে মাসের ৬ তারিখের ৩২টি নৌপথের দূরত্ব এবং সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকায় ঢাকা-কলাপাড়া (খেপুপাড়া) নৌপথের দূরত্ব সর্বোচ্চ, ২৭৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দেখানে হয়েছে। আর ডেকের ভাড়া দেখানো হয়েছে ৭৪০ টাকা। এই নৌপথে এখন প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের আর কোন পথ নেই; তাই বাধ্য হয়েই লঞ্চ মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা মেনেই লঞ্চে চলাচল করছেন যাত্রীরা। এখানকার বিভিন্ন ঘাটের ব্যবসায়ীরা মালামাল আনার জন্য লঞ্চকে বেছে নেন। এখনো গড়ে চার শতাধিক যাত্রী চলাচল করছে এই নৌপথে।
এমভি সপ্তবর্ণা (৯) লঞ্চের মাস্টার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বের এই নৌপথে এখন মোট পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করছে। লঞ্চগুলো হচ্ছে, পুবালী-৬, ইয়াদ-৭, জামাল-৮, জাহিদ-৩ ও বাগেরহাট-২। কেউ সপ্তাহে এক দিন কেউ আবার দুইদিন আসা-যাওয়া করছে। লাভ-লোকসান অনিশ্চিত। জানালেন তিনি বর্তমানে ডেকের ভাড়া নেন ৬০০ টাকা। কেবিন সিঙ্গেল ১৩০০ ও ডাবল ২৫০০ টাকা। রয়েছে ফ্যামিলি ও ভিআইপ কেবিনও। ঢাকা থেকে ছেড়ে কলাপাড়ায় (খেপুপাড়া) পৌছতে ১৮-১৯ ঘন্টা সময় লাগায় যাত্রীর সংখ্যা কম। ঢাকা থেকে ছেড়ে ফতুল্লা, চাঁদপুর, বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, আউলিয়াপুর, চরশীবা, চরকাজল, কোড়ালিয়া, ফেলাবুনিয়া, বালিয়াতলী ও সবশেষ কলাপাড়ায় শেষ গন্তব্য। বিশেষ করে চরাঞ্চলের লোকজন এই নৌপথে চলাচল করছে বেশি।
২১-২২ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে হুমায়ুন কবিরের মতামত, লঞ্চটি যদি সকালে কলাপাড়া ঘাটে পৌছাতে পারত তাইলে কুয়াকাটাগামী অসংখ্য পর্যটক স্বাচ্ছন্দের মধ্য দিয়ে এই পথে চলাচল করতে পারত। এটি মালিক সমিতি ইচ্ছা করলেই সম্ভব। বর্তমানে এই নৌপথে গড়ে এক ট্রিপে ২৭০০-২৮০০ লিটার জ্বালানির দরকার হয়। ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় পরেরদিন ছেড়ে সকালে কলাপাড়ায় পৌছলে এই নৌপথটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং পর্যটকের ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ হতো বলেও একাধিক যাত্রী মনে করছেন।
তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে লঞ্চের ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক। কুয়াকাটা সড়কপথে আসা-যাওয়ায় এখন ভাঙ্গার পরে সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ চলাচল করতে হয়। এই পথে অপ্রশস্থ সড়কে যান চলাচল খুবই বিপজ্জনক। তাই দেশের সবচেয়ে বেশি দূরত্বের নৌপথের লঞ্চ চলাচলে সময় বাঁচাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য মালিক সমিতির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
তারপরও এই নৌপথের দোতলা লঞ্চগুলো এখনো সচল রয়েছে। তবে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক নয়। মালিকদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত। এক সময়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটি পরেরদিন সকালে কলাপাড়ায় পৌছাতো। আর এখন পরের দিন দুপুরে পৌছাচ্ছে। দীর্ঘসময় লঞ্চে থাকার অসহনীয় ভোগান্তির পরও উপকূলীয় সাগরমোহনা ঘেঁষা চরাঞ্চলের মানুষ এখনো দীর্ঘতম এই নৌপথে ঢাকায় আসা-যাওয়া করছেন।
প্রতিদিন ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় ছেড়ে যাওয়া একটি করে দোতলা লঞ্চ সর্বোচ্চ দীর্ঘতম এই পথে চলাচল করে আসছে। সন্ধ্যায় ছেড়ে গেলেও এটি কলাপাড়া (খেপুপাড়া) পৌছে পরেরদিন দুপুরে। ১৭-১৮ ঘন্টা লেগে যায়। যেটি ইচ্ছা করলে সকালে কলাপাড়ায় পৌছানোর সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষের খামখেয়ালিপনায় যাত্রীদের ৫-৬ ঘন্টা সময় অতিরিক্ত লঞ্চে থাকতে হয়। গন্তব্যে পৌছাতে মাত্রাতিরিক্ত সময় লাগার কারণে স্বাচ্ছন্দময় নদীপথের ভ্রমণ ক্রমশ মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে গেছে। নইলে নদীপথের এই লঞ্চ চলাচলের পথটি কলাপাড়া কিংবা কুয়াকাটাগামী পর্যটকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহনে পরিচিতি পেত। কারণ সবচেয়ে কম ঝুকিপূর্ণ এবং স্বাচ্ছন্দের পারিবারিক চলাচলের রুট হচ্ছে দোতলা লঞ্চে চলাচলের এই নৌরুট। যেটি বাসের ক্ষেত্রে বেশি ঝুকিপূর্ণ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের গত মে মাসের ৬ তারিখের ৩২টি নৌপথের দূরত্ব এবং সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকায় ঢাকা-কলাপাড়া (খেপুপাড়া) নৌপথের দূরত্ব সর্বোচ্চ, ২৭৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দেখানে হয়েছে। আর ডেকের ভাড়া দেখানো হয়েছে ৭৪০ টাকা। এই নৌপথে এখন প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের আর কোন পথ নেই; তাই বাধ্য হয়েই লঞ্চ মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা মেনেই লঞ্চে চলাচল করছেন যাত্রীরা। এখানকার বিভিন্ন ঘাটের ব্যবসায়ীরা মালামাল আনার জন্য লঞ্চকে বেছে নেন। এখনো গড়ে চার শতাধিক যাত্রী চলাচল করছে এই নৌপথে।
এমভি সপ্তবর্ণা (৯) লঞ্চের মাস্টার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বের এই নৌপথে এখন মোট পাঁচটি লঞ্চ চলাচল করছে। লঞ্চগুলো হচ্ছে, পুবালী-৬, ইয়াদ-৭, জামাল-৮, জাহিদ-৩ ও বাগেরহাট-২। কেউ সপ্তাহে এক দিন কেউ আবার দুইদিন আসা-যাওয়া করছে। লাভ-লোকসান অনিশ্চিত। জানালেন তিনি বর্তমানে ডেকের ভাড়া নেন ৬০০ টাকা। কেবিন সিঙ্গেল ১৩০০ ও ডাবল ২৫০০ টাকা। রয়েছে ফ্যামিলি ও ভিআইপ কেবিনও। ঢাকা থেকে ছেড়ে কলাপাড়ায় (খেপুপাড়া) পৌছতে ১৮-১৯ ঘন্টা সময় লাগায় যাত্রীর সংখ্যা কম। ঢাকা থেকে ছেড়ে ফতুল্লা, চাঁদপুর, বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, আউলিয়াপুর, চরশীবা, চরকাজল, কোড়ালিয়া, ফেলাবুনিয়া, বালিয়াতলী ও সবশেষ কলাপাড়ায় শেষ গন্তব্য। বিশেষ করে চরাঞ্চলের লোকজন এই নৌপথে চলাচল করছে বেশি।
২১-২২ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে হুমায়ুন কবিরের মতামত, লঞ্চটি যদি সকালে কলাপাড়া ঘাটে পৌছাতে পারত তাইলে কুয়াকাটাগামী অসংখ্য পর্যটক স্বাচ্ছন্দের মধ্য দিয়ে এই পথে চলাচল করতে পারত। এটি মালিক সমিতি ইচ্ছা করলেই সম্ভব। বর্তমানে এই নৌপথে গড়ে এক ট্রিপে ২৭০০-২৮০০ লিটার জ্বালানির দরকার হয়। ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় পরেরদিন ছেড়ে সকালে কলাপাড়ায় পৌছলে এই নৌপথটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং পর্যটকের ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ হতো বলেও একাধিক যাত্রী মনে করছেন।
তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে লঞ্চের ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক। কুয়াকাটা সড়কপথে আসা-যাওয়ায় এখন ভাঙ্গার পরে সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ চলাচল করতে হয়। এই পথে অপ্রশস্থ সড়কে যান চলাচল খুবই বিপজ্জনক। তাই দেশের সবচেয়ে বেশি দূরত্বের নৌপথের লঞ্চ চলাচলে সময় বাঁচাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য মালিক সমিতির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে