ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ইউরোপ, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানক্ষেত

আপলোড সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ১১:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ১১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন
তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির অভাবে ইউরোপের অন্যতম ধান উৎপাদন অঞ্চল ইতালির উত্তরাঞ্চল ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে। পানির সংকটে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও আগাছায় ভরে যাচ্ছে জমি। ফলে এ বছরের ধান উৎপাদন নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

ইতালির পাভিয়া প্রদেশের কৃষক শারন আঙ্গোলি বলেন, আমার একটি ধানক্ষেত ইতোমধ্যে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এখন আর সেটি থেকে ভালো ফলনের আশা নেই। তিনি জানান, এখন প্রচুর বৃষ্টি হলেও সেই ফসল আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

কৃষক কার্লো আঙ্গোলি বলেন, ফসল বাঁচাতে অন্তত ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি প্রয়োজন। তবে শিলাবৃষ্টি হলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সেপ্টেম্বরে কাটার কথা থাকা ধানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

পাভিয়া ইতালির সবচেয়ে বড় ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। কিন্তু বসন্তে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুশি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ জাতের ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া না যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে খরার প্রভাব পড়েছে উত্তর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ পো নদী ও এর শাখা-নদীগুলোতেও। নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান হারে পানি ব্যবহার চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানির সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে বিরোধও বাড়ছে। এক অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, অন্য অঞ্চলে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করায় তাদের জমিতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনে ইউরোপজুড়ে যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব। পরিবেশবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ, উন্নত সেচব্যবস্থা এবং কৃষি অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি।

কৃষকদের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ইতালির ধান উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :