​অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা গ্রাহক!

আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৬ অপরাহ্ন
বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতোই থাকলেও এখন আগের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। বিষয়টিকে শুধু কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আর্থিক অনিয়ম হিসেবে দেখছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে।

কথা হয় রাজধানীর ধানমন্ডি, আদাবর, জিগাতলা, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, কাকরাইল, রাজারবাগ, মগবাজার, খিলগাঁও, শান্তিনগর, মুগদা, মান্ডা এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, তিন-চার বছর আগেও যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতাম, বর্তমানে তা বাড়েনি। যে জায়গায় আগে বিল হতো ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে, জুন মাসে তা বেড়ে দ্বিগুণ দেখানো হয়েছে। কোনো হিসাব ছাড়াই প্রিপেইড মিটারে বিল কাটা হচ্ছে।

এ ধরনের বিলকে 'ভৌতিক' উল্লেখ করে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা বলছেন, এমনটা আগে কখনো হয়নি। স্বাভাবিকের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি। আমরা এরই মধ্যে রিচার্জ করেছি। মাসের অর্ধেক সময়েই ৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এর আগে যা রিচার্জ করেছি, সব মিলিয়ে এক মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
 
কিছু গ্রাহক আবার বলেছেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তো কাটা হচ্ছেই, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে এএমআই মিটারের জটিলতা। এই মিটারে ব্যালান্স শেষ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে পেমেন্ট করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয় না। তখন দ্বারস্থ হতে হয় ডিপিডিসির কল সেন্টারের। আর তাদের অভিযোগ দিলেও বিদ্যুৎ চালুর বিষয়ে তিন-চার ঘন্টার মধ্যেও সমাধান মিলে না। এতে করে অন্ধকারে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য গ্রাহকের। জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যে হারে টাকা কাটা হচ্ছে তা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও অনেককে আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি বিল দিতে হচ্ছে। আর সংশ্লিষ্ট বিতরণী কোম্পানির অফিসগুলোতে অভিযোগ নিয়ে গেলেও সমাধান পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
 
অধিকাংশ গ্রাহক বিতরণী সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁরা বলছেন, অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো বিতরণ সংস্থাগুলোর এক ধরনের আর্থিক অনিয়মের কৌশল। গ্রাহকদের প্রতি এসব প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা। অতিরিক্ত বিল আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ নিয়মিত সামনে আসায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নজরদারিতে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।
 
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক এক নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে ম্যানুয়ালি অনিয়ম হতো, এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। এখানে কেউ জবাবদিহির মধ্যে নেই। যদি ডিজিটাল মিটারে ভুল ডাটা পোস্টিং দেওয়া হয় বা ওভার রিডিংয়ের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর জন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কখনই নেয়া হয় না। এ বিষয়ে কখনো কোনো কর্মকর্তার চাকরি যায়নি, কোনো বিদ্যুৎকর্মীকে জবাবদিহি করতে হয়নি। 
 
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। সেই সঙ্গে গ্রাহক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
 
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অথবা হটলাইনে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। 
 
যেসব নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে-
 
বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা- ১৬৯৯৯
 
বিপিডিবি এর কল সেন্টার- ১৬২০০
 
ডিপিডিসি লি. এর কল সেন্টার- ১৬১১৬

ডেসকো লি. এর কল সেন্টার- ১৬১২০

পল্লী বিদ্যুতের কল সেন্টার- ১৬৮৯৯
 
 ওজোপাডিকো লি. এর কল সেন্টার- ১৬১১৭

 নেসকো লি. এর কল সেন্টার- ১৬৬০৩

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :