জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সরকারের প্রথম বাজেট রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে বাস্তবসম্মত, উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। বাজেট নিয়ে উত্থাপিত নানা শঙ্কা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমরা পথ খুঁজিনি, পথ দেখিয়েছি। বিএনপি জানে কীভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হয়। বিরোধী দলকে বলব, সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়, জনস্বার্থে সহযোগিতা করুন।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এই বাজেটে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সেতুমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থ ব্যবস্থাপনা। বাজেট হচ্ছে রাষ্ট্রের আহরিত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা।” জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছে, তাই তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি বলেন, “দক্ষ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করতে যেমন শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রয়োজন, তেমনি তাদের জন্য উন্নত অবকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটে সেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।”
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
বাজেটের ব্যয় কাঠামোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের ব্যয় দুই ধরনের অনুন্নয়ন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়। গত অর্থবছরে অনুন্নয়ন ব্যয়ের অনুপাত ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা কমিয়ে বর্তমান বাজেটে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।”
একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলার পর দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এবার তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় রাখা হয়েছে। এতে উন্নয়নই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধে বর্তমান সরকারকে অনুন্নয়ন ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সরকার ১১ শতাংশের বেশি ভর্তুকি বরাদ্দ রেখেছে, যা প্রশংসার দাবিদার।”
রাজস্ব আদায় নিয়ে বিরোধীদের শঙ্কার জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, “ই-চালান চালু, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ এবং ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” তাই রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তিনি দেখেন না।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৯ শতাংশ। নেপাল ও ভুটানে এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশকেও সেই অবস্থানে যেতে হবে এবং অর্থমন্ত্রী সে লক্ষ্যেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।”
ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের সঞ্চয় বাড়লে ব্যাংক খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি বলেন, “রাজস্ব আদায় ও নির্ধারিত ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করা গেলে বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর বাজেটেও ঘাটতি থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘাটতি বাজেট মানেই ব্যর্থতা নয়; সঠিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট নিয়ে তেমন নেতিবাচক সমালোচনা হয়নি, কেবল কিছু শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি কৌতুক করে বলেন, প্রথমবার বিরোধী দলে এসেছে। তাই অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছে। আরও কয়েকবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা করতে শিখে যাবে।”
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এই বাজেটে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সেতুমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থ ব্যবস্থাপনা। বাজেট হচ্ছে রাষ্ট্রের আহরিত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা।” জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছে, তাই তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দ দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি বলেন, “দক্ষ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করতে যেমন শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রয়োজন, তেমনি তাদের জন্য উন্নত অবকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটে সেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।”
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
বাজেটের ব্যয় কাঠামোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের ব্যয় দুই ধরনের অনুন্নয়ন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়। গত অর্থবছরে অনুন্নয়ন ব্যয়ের অনুপাত ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা কমিয়ে বর্তমান বাজেটে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।”
একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলার পর দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এবার তিন লাখ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং অতিরিক্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় রাখা হয়েছে। এতে উন্নয়নই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের সুদ পরিশোধে বর্তমান সরকারকে অনুন্নয়ন ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সরকার ১১ শতাংশের বেশি ভর্তুকি বরাদ্দ রেখেছে, যা প্রশংসার দাবিদার।”
রাজস্ব আদায় নিয়ে বিরোধীদের শঙ্কার জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, “ই-চালান চালু, কর অব্যাহতি কমানো, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ এবং ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” তাই রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তিনি দেখেন না।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৯ শতাংশ। নেপাল ও ভুটানে এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশকেও সেই অবস্থানে যেতে হবে এবং অর্থমন্ত্রী সে লক্ষ্যেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।”
ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের সঞ্চয় বাড়লে ব্যাংক খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি বলেন, “রাজস্ব আদায় ও নির্ধারিত ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করা গেলে বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর বাজেটেও ঘাটতি থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘাটতি বাজেট মানেই ব্যর্থতা নয়; সঠিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট নিয়ে তেমন নেতিবাচক সমালোচনা হয়নি, কেবল কিছু শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি কৌতুক করে বলেন, প্রথমবার বিরোধী দলে এসেছে। তাই অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছে। আরও কয়েকবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা করতে শিখে যাবে।”
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন