ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ‘আর্মি ওয়্যার মেমোরিয়াল’এর ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
ওয়েবসাইটটির বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে নিহত হয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয় জন সেনাসদস্য। তাঁরা হলেন, সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, লান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুদমুরলি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।
সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।
২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম। জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।
গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। নিহত এই পর্যটকদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার একটি শাখা এই টিআরএফ।
এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত। জবাবে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।
দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ১০ মে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মিরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক সংক্ষিপ্ত সেনা অভিযান পরিচালনা করে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছে ৩১ জন, আহত হয়েছে ৫৭ জন এবং নিহত-আহতরা কেউ সন্ত্রাসী নয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ‘আর্মি ওয়্যার মেমোরিয়াল’এর ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
ওয়েবসাইটটির বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে নিহত হয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয় জন সেনাসদস্য। তাঁরা হলেন, সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, লান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুদমুরলি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।
সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।
২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম। জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।
গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। নিহত এই পর্যটকদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার একটি শাখা এই টিআরএফ।
এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত। জবাবে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।
দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ১০ মে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মিরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক সংক্ষিপ্ত সেনা অভিযান পরিচালনা করে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছে ৩১ জন, আহত হয়েছে ৫৭ জন এবং নিহত-আহতরা কেউ সন্ত্রাসী নয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে