ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, নিহত বেড়ে ২৩৫

আপলোড সময় : ২৬-০৬-২০২৬ ১১:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৬-২০২৬ ১১:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন
দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ভবন ফেটে যায়, ধসে পড়ে কিংবা বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে।

বৃহস্পতিবারও একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানান, কম্পনে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক কিশোরীর কান্না ঘণ্টার পর ঘণ্টা শোনা গেলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা দানি রিজো বলেন, ‘আমাদের লোক দরকার, সেনাবাহিনীর সদস্য দরকার, যাতে মেয়েটিকে বের করে আনা যায়।’ তবে কিছুক্ষণ পরই স্থানীয়রা জানান, মৃত্যু হয়েছে মেয়েটির।

একই রাজ্যের আরেকটি ধসে পড়া ভবনের নিচে তিনজনের জীবিত থাকার শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্তোনিও বারমুদেজ বলেন, ‘তারা এখনও বেঁচে আছে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। কোনো যন্ত্রপাতি নেই, তাদের উদ্ধার করার কোনো উপায়ও নেই।’

একজন উদ্ধারকর্মী জানান, প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উদ্ধার অভিযান। এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার লা গুয়াইরা পরিদর্শন করেন।

এএফপির সাংবাদিকরা শহরের একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। দেশটির ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রধান নিকোল কাস্ট পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। সারা বিশ্ব থেকে সাহায্যের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ১৫ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের একটি সর্বাত্মক সরকারি পদক্ষেপ রয়েছে। এটি হবে ব্যাপক, দ্রুত এবং কার্যকর।’ এ ছাড়া চীন, ভারত, ব্রাজিল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির জন্য প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, ১২৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্প মোকাবিলায় ‘সম্মিলিতভাবে ব্যাপক উদ্যোগ’ প্রয়োজন।

এদিকে উদ্ধার তৎপরতায় নতুন সংকট তৈরি করেছে লা গুয়াইরার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতি। গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতালির একজন এবং পর্তুগালের একজন নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দুই দেশ নিশ্চিত করেছে।

ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূল ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ১৯৯৭ সালের পর দেশটিতে এত বড় ভূমিকম্প আর হয়নি। ওই বছরের ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিল। বুধবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানকার বহু ভবন খালি করে দেয়া হয়। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে দেশটির ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :