অস্ত্র ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। তবে শিগগির নাইন এম এম আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল নিয়ে মাঠে নামবেন তারা।
একটি জাতীয় দৈনিক জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও চালানোর দক্ষতা বাড়িয়ে প্রশিক্ষিত হতে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ৩৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে কয়েক ধাপে অংশ নিচ্ছেন ডিএনসির ৫৭৯ জন কর্মকর্তা।
এ পর্যন্ত মোট ২৬০ জনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। উপপরিদর্শক থেকে শুরু করে পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন এবং অস্ত্রচালনায় পারদর্শী হয়ে অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া আপাতত ২৭৫টি ৯ এম এম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনা হচ্ছে। অনুমোদন রয়েছে ৫৯৫টি অস্ত্র কেনার।
অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে—‘একমাত্র সর্বশেষ পন্থা’ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে আদেশ প্রদানকারীকে অধিদপ্তর বা নির্বাহী তদন্তে গুলি করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়, যতদূর সম্ভব ন্যূনতম বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। তাতে কাজ না হলে দু-একটি গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
অস্ত্রসংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, গুলি করার প্রয়োজন হলে প্রথমে কারো দিকে তাক না করে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হবে। পাশাপাশি হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে হবে। ফাঁকা গুলির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একজন মাদক কারবারির কোমরের নিচে, হাঁটু অথবা পায়ে একটি গুলি করা যাবে। যেকোনো একজনের দিকে তাক করার সময় খেয়াল রাখতে হবে বর্ষিত গুলি যেন কোনোক্রমেই পেছনে অন্য কাউকে আঘাত না করে। ঘনবসতি অথবা আবাসিক এলাকায় অথবা সমবেত উচ্ছৃঙ্খল জনতার ওপর গুলিবর্ষণের সময় খেয়াল রাখতে হবে নিরপরাধ জনগণ যেন আঘাত না পায়।
গুলি করার পর গুলির খোসা অবশ্যই সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ বা ভয় পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি না করেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে গুলির আদেশ দেয়া ব্যক্তি গুলিবর্ষণের আদেশ দেয়ার যৌক্তিকতা পরবর্তী সময়ে যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপনের জন্য দায়ী থাকবেন।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গুলিবর্ষণ করার প্রয়োজন হলে অথবা জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গুলির ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়, মেট্রো, জেলা গোয়েন্দা অথবা বিশেষ জোন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মহাপরিচালককে অবহিত করবেন। অভিযানকারী দলের দলনেতা যত শিগগির সম্ভব মরদেহগুলো পুলিশ না আসা পর্যন্ত পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠাবেন। তিনি গুলির খোসা সংগ্রহ করে ইস্যু করা রাউন্ড সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। প্রতি ক্ষেত্রেই গুলিবর্ষণের পর যথাশিগগির সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার বা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, মাদক কারবারিরা এখন অস্ত্রসজ্জিত। সেখানে নিরস্ত্র মাদকের কর্মকর্তারা অভিযানে গিয়ে প্রায়ই বিব্রত হতে হয়। চলতি বছরেরই আমাদের খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের সাহস ও সক্ষমতার সঙ্গে যদি অস্ত্র যোগ হয় তবে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করতে পারব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, অস্ত্র ছাড়া মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে কিছুটা সংশয় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের জীবনের ঝুঁকি থাকে। আর পুলিশসহ অস্ত্রধারী অনেক সংস্থাকে আমরা সবসময় নিতে পারি না। তাই ভয় নিয়ে অভিযানে যেতে হয়। বিশেষ করে বড় বড় আস্তানায় অভিযান করতে হলে আমাদের বিভিন্ন দিক চিন্তা করতে হয়। সরকার মাদকের কর্মকর্তাদের অস্ত্র দিচ্ছে। এখন আত্মরক্ষা করে আমরা মাঠে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারব। সূত্র: মানবজবিন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
একটি জাতীয় দৈনিক জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও চালানোর দক্ষতা বাড়িয়ে প্রশিক্ষিত হতে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ৩৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে কয়েক ধাপে অংশ নিচ্ছেন ডিএনসির ৫৭৯ জন কর্মকর্তা।
এ পর্যন্ত মোট ২৬০ জনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। উপপরিদর্শক থেকে শুরু করে পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন এবং অস্ত্রচালনায় পারদর্শী হয়ে অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া আপাতত ২৭৫টি ৯ এম এম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনা হচ্ছে। অনুমোদন রয়েছে ৫৯৫টি অস্ত্র কেনার।
অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে—‘একমাত্র সর্বশেষ পন্থা’ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে আদেশ প্রদানকারীকে অধিদপ্তর বা নির্বাহী তদন্তে গুলি করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়, যতদূর সম্ভব ন্যূনতম বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। তাতে কাজ না হলে দু-একটি গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
অস্ত্রসংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, গুলি করার প্রয়োজন হলে প্রথমে কারো দিকে তাক না করে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হবে। পাশাপাশি হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে হবে। ফাঁকা গুলির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একজন মাদক কারবারির কোমরের নিচে, হাঁটু অথবা পায়ে একটি গুলি করা যাবে। যেকোনো একজনের দিকে তাক করার সময় খেয়াল রাখতে হবে বর্ষিত গুলি যেন কোনোক্রমেই পেছনে অন্য কাউকে আঘাত না করে। ঘনবসতি অথবা আবাসিক এলাকায় অথবা সমবেত উচ্ছৃঙ্খল জনতার ওপর গুলিবর্ষণের সময় খেয়াল রাখতে হবে নিরপরাধ জনগণ যেন আঘাত না পায়।
গুলি করার পর গুলির খোসা অবশ্যই সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ বা ভয় পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি না করেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে গুলির আদেশ দেয়া ব্যক্তি গুলিবর্ষণের আদেশ দেয়ার যৌক্তিকতা পরবর্তী সময়ে যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপনের জন্য দায়ী থাকবেন।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গুলিবর্ষণ করার প্রয়োজন হলে অথবা জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গুলির ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়, মেট্রো, জেলা গোয়েন্দা অথবা বিশেষ জোন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মহাপরিচালককে অবহিত করবেন। অভিযানকারী দলের দলনেতা যত শিগগির সম্ভব মরদেহগুলো পুলিশ না আসা পর্যন্ত পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠাবেন। তিনি গুলির খোসা সংগ্রহ করে ইস্যু করা রাউন্ড সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। প্রতি ক্ষেত্রেই গুলিবর্ষণের পর যথাশিগগির সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার বা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, মাদক কারবারিরা এখন অস্ত্রসজ্জিত। সেখানে নিরস্ত্র মাদকের কর্মকর্তারা অভিযানে গিয়ে প্রায়ই বিব্রত হতে হয়। চলতি বছরেরই আমাদের খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের সাহস ও সক্ষমতার সঙ্গে যদি অস্ত্র যোগ হয় তবে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করতে পারব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, অস্ত্র ছাড়া মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে কিছুটা সংশয় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের জীবনের ঝুঁকি থাকে। আর পুলিশসহ অস্ত্রধারী অনেক সংস্থাকে আমরা সবসময় নিতে পারি না। তাই ভয় নিয়ে অভিযানে যেতে হয়। বিশেষ করে বড় বড় আস্তানায় অভিযান করতে হলে আমাদের বিভিন্ন দিক চিন্তা করতে হয়। সরকার মাদকের কর্মকর্তাদের অস্ত্র দিচ্ছে। এখন আত্মরক্ষা করে আমরা মাঠে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারব। সূত্র: মানবজবিন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে