শিক্ষােই হলো প্রতিভা বিকাশের পথ: জুবাইদা রহমান

আপলোড সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ১২:৩৭:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ১২:৩৭:২০ অপরাহ্ন
ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারলে সঠিক প্রতিভা অন্বেষণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের এই সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ আরও সুগম হবে ইনশাল্লাহ।’

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)-এর আওতাভুক্ত ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্যোগে দেশব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরাজীর্ণ স্কুলগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রতিকূল পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের মেধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন স্কুল নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রায়ই বন্যা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোগত অবহেলার শিকার হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অনগ্রসর ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী খাতে অভাবনীয় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামো বেহাল এবং বহু স্কুলের বিধ্বস্ত অবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিকূলতাতেই শিক্ষা নেওয়া থামায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ নানা কষ্টের মাঝেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী হয়েছেন। হয়ত তাদের মাঝ থেকেই কেউ একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।’

নিজের একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমার আজ মনে পড়ছে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ৫৪ নং সাউথ বিদ্যালয়ের জীর্ণ সাদা দেয়ালে লাল রঙে লেখা জীবনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটি আমাদের সবাইকে চিহ্নিত করবে, চিন্তিত করবে এবং হয়ত জীবন সম্পর্কে আরও ভাবতে শেখাবে। দেয়ালে লেখা আছে ‘মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না, হয় সে জিতবে না হলে সে শিখবে’। এই জীর্ণ দেয়ালের লিখন কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ রকম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণী লেখা আছে।’

তিনি এই প্রতিযোগিতাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ আখ্যায়িত করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে উপস্থাপন করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মোট ৩৭টি দলের মধ্য থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রতিযোগিতায় অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে যথাক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং হলি ক্রস কলেজ।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :