রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল এক বাংলাদেশির

আপলোড সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ১১:৩৯:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ১১:৩৯:০০ পূর্বাহ্ন
ভালো আয়ের আশায় ১৬ লাখ টাকা ঋণ করে রাশিয়া পাড়ি জমিয়ে ছিলেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের সাঈদ মোল্লা (৩৫)। কিন্তু বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। পরিবারের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন সাঈদ মোল্লা। 

নিহত সাঈদ মোল্লা নবাবগঞ্জ উপজেলা বান্দুরা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের হাসনাবাদ গ্রামের মৃত্যু আনসের মোল্লার ছেলে। তার ৭ বছরের আরিয়ান নামে একটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সে হারু মোল্লা নামে পরিচিত। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সাঈদ মোল্লা। বাবার মৃত্যুর পর মাকে নিয়েই বসবাস করতেন তিনি।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাশ্ববর্তী দোহার উপজেলার ইকরাশি এলাকার জুলহাস নামে এক দালালের খপ্পরে পড়ে ১৬ লাখ টাকার ঋণ করে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়া পাড়ি জমান নবাবগঞ্জ উপজেলার সাঈদ মোল্লা। যাওয়ার ৪-৫ দিন পর মেডিকেল করানো হয়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ ছিল না পরিবারের সঙ্গে। পাঁচ দিন পর রাশিয়া থেকে ফোন আসে কাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আটকায় রাখে ৩০ বাংলাদেশির। এদের মধ্যে মাত্র চারজন জীবিত ফিরে এসেছেন। 

পরিবারের অভিযোগ, ইকরাশি এলাকার জুলহাস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে রাশিয়ায় যান সাঈদ। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকদিন একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। 

পরিবার আরও জানায়, সাঈদের সঙ্গে থাকা ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে তাদের কাছ থেকেই জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশি ঐ নাগরিকদের। পরে গত ১৩ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে ফোনে সাঈদের মৃত্যুর খবর পান তার স্ত্রী রেশমা বেগম।

মা মিনি বেগম কান্না জনিতকণ্ঠে বলেন, এই ছেলের সংসারেই আমার খাবার হতো। ছেলেটার এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের কাছে আমার দাবি ছেলেটাকে যেন শেষ বারের মতো একটা বার তার মুখটা দেখতে পারি। তার লাশ দেশে আনার ব্যবস্থাটা যেন করে।

সাঈদের মৃত্যুর সঠিক তথ্য, লাশ দেশে ফেরত আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজনরা। ভালো জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাঈদ মোল্লা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শোকের গল্প। পরিবারের একটাই প্রশ্ন- কাজের জন্য যাওয়া একজন বাংলাদেশি কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছালেন? সেই উত্তর খুঁজছে এখন স্বজনরা।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :