পরীক্ষামূলক উৎপাদনের আগেই রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘ত্রুটি শনাক্ত’

আপলোড সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ০১:৪১:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ০১:৪১:৪২ অপরাহ্ন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং (fuel loading) এর পর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যেতে জটিলতা বা ত্রুটি শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন চেষ্টার শুরুতেই প্লান্ট শাটডাউন করতে বাধ্য হয় তারা। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ (IAEA) এর প্রতিনিধিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রূপপুরে অবস্থান করছিল।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে প্রথম ইউনিটের সিস্টেমে প্রেশার (চাপ) দেয়ার পর আমরা একটি সামান্য ত্রুটি পেয়েছি। এটি কোনো বড় সমস্যা নয় এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এটি ঠিক হয়ে যাবে।”

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষা চলাকালীন প্রকৌশলীরা প্রথম ইউনিটের তিনটি ভিন্ন স্থানে সামান্য ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। ঐ কর্মকর্তা জানান, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে।

শুরুতেই কি ধরণের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং পরীক্ষার সময় প্রায় তিনটি ছোট ছিদ্র (minor holes) তৈরি হয়েছে। জানান, বিষয়টি সামান্য হলেও আমরা ক্ষতির পরিধি ও গুরুত্ব নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগেও এরকম একটি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের টিমে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটো-খাটো কারিগরি সমস্যা বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘাটতি থাকলে নিউক্লিয়ার প্লান্ট শাটডাউন করতে হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিং পরীক্ষা বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনের চেষ্টার সময় সম্ভবত এ ধরণের কোনো বিষয় শনাক্ত করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না তিনি। 

রূপপুর সফরে থাকা আইএই-এর সদস্যরা বলেন, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্র পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করবে সংস্খাটি। তবে রেগুলিটরি ক্ষমতা দেশটির নিজেদের হাতেই থাকে। এক্ষেত্রে আইএইএ কেবলমাত্র সহযোগিতা করে থাকে।
এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যৌথ উদ্যোগে “নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্রাটেজি রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ পাথ ফরোয়ার্ড”শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইইএ-এর পর্যবেক্ষণ,  নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, সংসদ সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ঐ আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, অন্যান্য  জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলকভাবে কম হবে।

মন্ত্রী জানান, সরকার আরও দুটি নতুন ইউনিট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি নির্ভর করছে প্রথম প্রকল্পের ছূড়ান্ত সমাপ্তির ওপর। 

কর্মকর্তারা জানান, রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যেন কেন্দ্রটি টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বলেন, একটি ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম; তাঁর অনুমান অনুযায়ী এমন ঘটনা দশ লাখে মাত্র একবার ঘটতে পারে। তারপরও নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।  যার প্রথম ইউনিটে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি-লোডিং সম্পন্ন হয়েছে।  দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। 

এছাড়া একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানিভরনের কাজ শুরু হবে। অনুরূপ হিসাবেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

সূত্র: বাংলা ভিশন

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন   

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :