শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ, ৩ ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ১০:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন
তীব্র দাবদাহ ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অব্যাহতভাবে কমছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে পানি স্বল্পতার কারণে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

চালু থাকা দুটি ইউনিট দিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন যাচ্ছে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট। অথচ হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে পানির স্তর থাকার কথা ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট বা এমএসএল (মীন সি লেভেল)। কিন্তু বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হ্রদের পানির স্তর ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট, যা এখনও ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম। হ্রদে পানির স্তর ৬৮ এমএসএল এ নেমে গেলে তখন তা হবে বিপজ্জনক। তখন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

সূত্র জানায়, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মিত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি বাংলাদেশের কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি। এ হ্রদের ফলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি রাঙামাটি জেলায় গড়ে ওঠে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মাছ উৎপাদন, চাষাবাদ, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ বিভিন্ন সুবিধা। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর এ পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতায় খনন করা হয়নি তলদেশ। ফলে একদিকে যেমন হ্রদের নাব্যতা সংকট, তার পাশাপাশি প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে হ্রদজুড়ে জেগে ওঠে অসংখ্য ডুবোচর আর মাঠ। এতে হ্রদ দিয়ে নৌ চলাচল ও পরিবহণ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় হ্রদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তি চরমে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জেলা সদরের সঙ্গে নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন। উপজেলাগুলোর গন্তব্যে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। পানি শুকিয়ে গন্তব্য থেকে পথ সরে এসেছে ২০-৩০ কিলোমিটার নিচে।  

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। জেলার প্রায় সব নৌ রুটে আমাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলা সদরে লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ওইসব উপজেলায় পানি শুকিয়ে গন্তব্যস্থল থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার পথ নিচে নেমে এসেছে।  

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন- অনাবৃষ্টি, খরা ও তীব্র দাবদাহের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ এমএসএল (মীন সি লেভেল)। অথচ রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে হ্রদে পানির স্তর থাকার কথা ৭৮ দশমিক ৩৪ এমএসএল। সে হিসাবে এখনও ৪ দশমিক ৪৩ ফুট পানি কম রয়েছে। চলতি সপ্তাহে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রবল বৃষ্টি না হলে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। 
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :