রিপন আলীর বয়স ৪০ বছর। তিনি পেশায় কশাই। গত এক দশক ধরে গবাদি পশুর মাথা সংগ্রহ করে অত্যন্ত নান্দনিক শোপিস তৈরির এক ব্যতিক্রমী কৌশল উদ্ভাবন করেছেন তিনি। মাটি বা কাঠের শোপিসের প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মাথা প্রক্রিয়াজাত করে শৈল্পিক শিল্পকর্মে রূপ দিচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে ১০০টির বেশি এমন শিল্পকর্ম রয়েছে।
শুরুতে অনেকের উপহাস ও বাধার সম্মুখীন হলেও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে কাজটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রিপন। তার এই উদ্ভাবন এখন স্থানীয় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। রিপনের মূল লক্ষ্য হলো কাজটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া, যাতে বন্যপ্রাণী নিধন হ্রাস পায় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
রিপনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে শিংসহ পশুর মাথাগুলো থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। অনেকেই এসেছেন এই শিল্পকর্ম দেখতে। রিপন আলী বলেন, এ বিষয়ে মানুষ এখনো সেভাবে জানে না। এখানে গরু ও ছাগলের মাথা থেকে তৈরি শোপিস বেশি, এরপর ভেড়া ও মহিষের। সব শিংওয়ালা মাথা নেওয়া হয় না, কেবল যেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় সেগুলোই নেওয়া হয়।
এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির পেছনের গল্পটি প্রায় এক দশকের। রিপন আলী জানান, কশাইয়ের কাজ করতে করতে একদিন রাজশাহীর শালবাগান কশাইপট্টিতে মহিষের বিশাল শিংওয়ালা একটি মাথা দেখতে পান। সেখানকার কশাই মাথা থেকে শিং আলাদা করে ফেললে তিনি সেটি সংগ্রহ করেন। বিশাল শিং দেখে কয়েকজন বন্ধু পরামর্শ দেন, প্রাণীর মাথা থেকে তৈরি জিনিসপত্র ভবিষ্যতে মূল্যবান শোপিস হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সাল থেকে কাজ শুরু করেন তিনি।
সঠিক পদ্ধতি জানতে অনেক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিপন, কিন্তু কেউ সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেই পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেন তিনি। কাজের উপকরণ হিসেবে তিনি কেবল গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো দেশি গৃহপালিত পশুর মাথা ব্যবহার করেন, যা বাজার থেকে কিনে নেন। বাঘ বা হরিণের মতো সরকারিভাবে নিষিদ্ধ কোনো বন্যপ্রাণীর অঙ্গ তিনি ব্যবহার করেন না বলে জানিয়েছেন।
শুরুর দিকে পরিবারও বিরক্ত ছিল— পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে। তবে দশ বছরের সাধনার পর দৃশ্যপট বদলেছে। এখন পরিবার ও দর্শনার্থী সবাই তার কাজের প্রশংসা করছেন।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে দেখতে আসা মকসেদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জানি রিপন এই জিনিসগুলো তৈরি করছে। অনেক যত্ন নিয়ে কাজ করেছে, জিনিসগুলো সত্যিই মূল্যবান। পছন্দ হলে একটা নিয়ে যাব।
সুমাইয়া আক্তার বলেন, অনেক ধরনের শোপিস দেখেছি, কিন্তু পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস তৈরি এই প্রথম দেখলাম। আইডিয়াটা একেবারেই অনন্য।
রাজশাহীর চারঘাট থেকে আসা রাম বলেন, এমন শোপিস সচরাচর চোখে পড়ে না। বড়লোকদের বাসায় হরিণের মাথা বা চামড়ার শোপিস দেখা যায়। এটি রিপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শিংগুলো দেখে একদম জীবন্ত মনে হচ্ছে।
রিপন আলী জানান, এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই তার স্বপ্ন। তার মতে, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি শোপিস সহজলভ্য হলে মানুষ বন থেকে বাঘ বা হরিণের মাথা ও চামড়া সংগ্রহের মতো অবৈধ কাজ ছেড়ে দেবে, যা বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
শুরুতে অনেকের উপহাস ও বাধার সম্মুখীন হলেও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে কাজটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রিপন। তার এই উদ্ভাবন এখন স্থানীয় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। রিপনের মূল লক্ষ্য হলো কাজটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া, যাতে বন্যপ্রাণী নিধন হ্রাস পায় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
রিপনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে শিংসহ পশুর মাথাগুলো থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। অনেকেই এসেছেন এই শিল্পকর্ম দেখতে। রিপন আলী বলেন, এ বিষয়ে মানুষ এখনো সেভাবে জানে না। এখানে গরু ও ছাগলের মাথা থেকে তৈরি শোপিস বেশি, এরপর ভেড়া ও মহিষের। সব শিংওয়ালা মাথা নেওয়া হয় না, কেবল যেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় সেগুলোই নেওয়া হয়।
এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির পেছনের গল্পটি প্রায় এক দশকের। রিপন আলী জানান, কশাইয়ের কাজ করতে করতে একদিন রাজশাহীর শালবাগান কশাইপট্টিতে মহিষের বিশাল শিংওয়ালা একটি মাথা দেখতে পান। সেখানকার কশাই মাথা থেকে শিং আলাদা করে ফেললে তিনি সেটি সংগ্রহ করেন। বিশাল শিং দেখে কয়েকজন বন্ধু পরামর্শ দেন, প্রাণীর মাথা থেকে তৈরি জিনিসপত্র ভবিষ্যতে মূল্যবান শোপিস হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সাল থেকে কাজ শুরু করেন তিনি।
সঠিক পদ্ধতি জানতে অনেক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিপন, কিন্তু কেউ সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেই পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেন তিনি। কাজের উপকরণ হিসেবে তিনি কেবল গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো দেশি গৃহপালিত পশুর মাথা ব্যবহার করেন, যা বাজার থেকে কিনে নেন। বাঘ বা হরিণের মতো সরকারিভাবে নিষিদ্ধ কোনো বন্যপ্রাণীর অঙ্গ তিনি ব্যবহার করেন না বলে জানিয়েছেন।
শুরুর দিকে পরিবারও বিরক্ত ছিল— পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে। তবে দশ বছরের সাধনার পর দৃশ্যপট বদলেছে। এখন পরিবার ও দর্শনার্থী সবাই তার কাজের প্রশংসা করছেন।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে দেখতে আসা মকসেদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জানি রিপন এই জিনিসগুলো তৈরি করছে। অনেক যত্ন নিয়ে কাজ করেছে, জিনিসগুলো সত্যিই মূল্যবান। পছন্দ হলে একটা নিয়ে যাব।
সুমাইয়া আক্তার বলেন, অনেক ধরনের শোপিস দেখেছি, কিন্তু পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস তৈরি এই প্রথম দেখলাম। আইডিয়াটা একেবারেই অনন্য।
রাজশাহীর চারঘাট থেকে আসা রাম বলেন, এমন শোপিস সচরাচর চোখে পড়ে না। বড়লোকদের বাসায় হরিণের মাথা বা চামড়ার শোপিস দেখা যায়। এটি রিপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শিংগুলো দেখে একদম জীবন্ত মনে হচ্ছে।
রিপন আলী জানান, এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই তার স্বপ্ন। তার মতে, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি শোপিস সহজলভ্য হলে মানুষ বন থেকে বাঘ বা হরিণের মাথা ও চামড়া সংগ্রহের মতো অবৈধ কাজ ছেড়ে দেবে, যা বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন