ভারত সীমান্তঘেঁষা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাম্বুরাছড়া গ্রামের বয়স প্রায় একশ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ বসবাস করলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ জনপদে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, বর্ষায় কাদায় ডুবে যায় একমাত্র রাস্তা। শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ - তিন মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত সীমান্তের এই দ্বীপ গ্রাম।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জাম্বুরাছড়া। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘দ্বীপ গ্রাম’ নামে পরিচিত। শহর থেকে হুগলিয়া বাজার পর্যন্ত পাকা সড়ক থাকলেও সেখান থেকে গ্রাম পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পথ এখনো কাঁচা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল-জিপ চললেও বর্ষা এলেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। তখন হাঁটাচলাই কষ্টসাধ্য। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।
গ্রামের দুই পাশে ভারতীয় সীমান্ত, এক পাশে রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল, অন্য পাশে কৃষিজমি। জনসংখ্যা বাড়লেও স্কুল-কলেজ গড়ে ওঠেনি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছেলে-মেয়েদের প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়।
জাম্বুরাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন বলেন, গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারী শিক্ষার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বাংলাদেশের আর কোনো গ্রামে এতো কম শিক্ষিত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে পড়েছেন এমন মানুষ হাতেগোনা। গ্রামের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর হার মাত্র ২৫ শতাংশ।
নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে প্রসূতি মা - সবার জন্যই ৭ কিমি কাদা-পানি ভেঙে শহরে যেতে হয়। রাতে অসুস্থ হলে ভরসা বলতে কিছুই নেই।
সিন্দুরখাঁন ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার রাস্তা পাকরণের দরখাস্ত করেছি। সরকারি বরাদ্দ পাইনি। রাস্তা পাকা হলে দুর্ভোগ অনেক কমবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ রাস্তার জন্য একটি বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন আছে। চলতি অর্থবছরেই সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে খুব দ্রুতই করার চেষ্টা করছি।
প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়েও সীমান্তের এই গ্রামটির মানুষ আজও মৌলিক সেবার জন্য হাহাকার করছে। ৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, একটি মাধ্যমিক স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক - এই তিনটি জিনিসই বদলে দিতে পারে জাম্বুরাছড়ার ভাগ্য। প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ পেলে ‘দ্বীপ গ্রাম’ জেগে উঠবে উন্নয়নের আলোয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জাম্বুরাছড়া। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘দ্বীপ গ্রাম’ নামে পরিচিত। শহর থেকে হুগলিয়া বাজার পর্যন্ত পাকা সড়ক থাকলেও সেখান থেকে গ্রাম পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পথ এখনো কাঁচা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল-জিপ চললেও বর্ষা এলেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। তখন হাঁটাচলাই কষ্টসাধ্য। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।
গ্রামের দুই পাশে ভারতীয় সীমান্ত, এক পাশে রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল, অন্য পাশে কৃষিজমি। জনসংখ্যা বাড়লেও স্কুল-কলেজ গড়ে ওঠেনি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছেলে-মেয়েদের প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়।
জাম্বুরাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন বলেন, গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারী শিক্ষার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বাংলাদেশের আর কোনো গ্রামে এতো কম শিক্ষিত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে পড়েছেন এমন মানুষ হাতেগোনা। গ্রামের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর হার মাত্র ২৫ শতাংশ।
নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে প্রসূতি মা - সবার জন্যই ৭ কিমি কাদা-পানি ভেঙে শহরে যেতে হয়। রাতে অসুস্থ হলে ভরসা বলতে কিছুই নেই।
সিন্দুরখাঁন ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার রাস্তা পাকরণের দরখাস্ত করেছি। সরকারি বরাদ্দ পাইনি। রাস্তা পাকা হলে দুর্ভোগ অনেক কমবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ রাস্তার জন্য একটি বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন আছে। চলতি অর্থবছরেই সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে খুব দ্রুতই করার চেষ্টা করছি।
প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়েও সীমান্তের এই গ্রামটির মানুষ আজও মৌলিক সেবার জন্য হাহাকার করছে। ৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, একটি মাধ্যমিক স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক - এই তিনটি জিনিসই বদলে দিতে পারে জাম্বুরাছড়ার ভাগ্য। প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ পেলে ‘দ্বীপ গ্রাম’ জেগে উঠবে উন্নয়নের আলোয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে