বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চায় রিহ্যাব

আপলোড সময় : ০৫-০৬-২০২৬ ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৬-২০২৬ ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন
আসছে বাজেটে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা এমন নীতি-কৌশল চান, যাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর কারণে ফ্ল্যাটের দাম নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নিতে না হয়। একইসঙ্গে তারা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার দাবিও তুলেছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ না দেয়াই উচিত। বরং ফ্ল্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ করা যায়।

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান শরিফ। তবুও পরিবারের জন্য একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি, যা গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে বাস্তবায়ন হয়নি। সঞ্চয় করলেও মূল্য বৃদ্ধির কারণে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

রায়হান শরিফ বলেন, সবকিছুর দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে স্বপ্ন; নিজের একটা ফ্ল্যাট থাকা বা নিজের একটা বাসস্থান থাকা সেটা এখন খুবই দুরূহ হয়ে যাচ্ছে।
 
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের হিসাবে, রড-সিমেন্টসহ কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে কয়েক বছরে ভবন নির্মাণ ব্যয় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাস্তবতার কারণেই ফ্ল্যাট এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং খাতটি বিক্রির মন্দার মুখে পড়েছে।
 
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি, ইম্পোর্টেড আইটেমের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি; সবকিছু মিলিয়ে ঢাকায় সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট দেয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
 
গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপের সিইও শাহাদাৎ হোসেন বাহার বলেন, বিশ্ব যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব জায়গায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রেও এসব পণ্যের ওপর ছাড় দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
 
এর মধ্যেই বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় কমাতে ফ্ল্যাটের আসল দাম কম দেখানোর প্রবণতা চলছে, যা সরকারের রাজস্ব আয় কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিবন্ধন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।
 
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ফ্ল্যাটের প্রকৃত ব্যয় অনুযায়ী কেনা মূল্যের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মৌজা ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন খরচ সমন্বয় করে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
 
তবে মন্দার মধ্যে আবাসন খাতকে চাঙা করতে আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে অর্থপাচার কমে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. মো. আলী আফজাল বলেন, যদি এ ধরনের ব্যবস্থা না রাখা হয়, তাহলে টাকা বিদেশে চলে যাবে এবং নতুন করে বেগমপাড়া তৈরি হবে। তাই একটি আইন ও নিয়মের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।
 
রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সঙ্গে একমত হলেও অর্থনীতিতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেয়ার পক্ষে অর্থনীতিবিদরা। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এ ধরনের সুযোগ না দিয়ে বরং ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে এনআইডি ও টিআইএন-এর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।
 
মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফেরাতে পুরোনো ফ্ল্যাট বিক্রিতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবিও জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন 
 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :