নারীদের চেয়ে এগিয়ে পুরুষ

অনলাইন কেনাকাটা করে সাড়ে ১৪ শতাংশ মানুষ: জরিপ

আপলোড সময় : ০২-০৬-২০২৬ ০৩:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৬-২০২৬ ০৪:৩৯:১৪ অপরাহ্ন
দেশে অনলাইন কেনাকাটার পরিধি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পণ্য ও সেবাভিত্তিক কেনাকাটার প্রবণতা বাড়লেও এখনো তা দেশের মোট জনসংখ্যার একটি তুলনামূলক ছোট অংশের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১৪.৪ শতাংশ মানুষ অনলাইনে কোনো না কোনো পণ্য বা সেবা গ্রহণ করেন।

‘আইসিটি অ্যাক্সেস অ্যান্ড ইউজ বাই হাউজহোল্ডস অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়ালস সার্ভে ২০২৪-২৫’ শীর্ষক এই জরিপ অনুযায়ী, অনলাইন কেনাকাটায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে প্রতি পাঁচজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত একজনেরও বেশি অনলাইনে কেনাকাটা করেন, যার হার ২১.৩ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যবহার দেখা গেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে অনলাইন ক্রেতার হার ৮.৭ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক চিত্রে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামে ১৬.২ শতাংশ, খুলনায় ১৪.২ শতাংশ, রাজশাহীতে ১১.৭ শতাংশ, সিলেটে ১০.৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৯.৩ শতাংশ এবং রংপুরে ৯.২ শতাংশ মানুষ অনলাইন কেনাকাটায় যুক্ত আছেন। শহর ও গ্রামের ব্যবধানও এখানে স্পষ্ট। শহরাঞ্চলে অনলাইন ক্রেতার হার ২০ শতাংশ, যেখানে গ্রামে তা ১১.৮ শতাংশ।

জরিপে দেখা গেছে, অনলাইন বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পোশাক, জুতা ও খেলাধুলার সামগ্রীর ক্ষেত্রে। মোট অনলাইন কেনাকাটার প্রায় ৭০.৩ শতাংশই এ ধরনের পণ্যে সীমাবদ্ধ। এরপর রয়েছে খাদ্য ও মুদি পণ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স ও আইটি পণ্য।

অনলাইন লেনদেনে এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’। ৮৬.৮ শতাংশ ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করেন। মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ ও নগদের ব্যবহার করছেন ১৩.৯ শতাংশ গ্রাহক। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার মাত্র ৩.১ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করেন ১.১ শতাংশ ক্রেতা।

ডিজিটাল কেনাকাটায় পুরুষদের অংশগ্রহণ নারীদের তুলনায় বেশি। পুরুষদের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ অনলাইনে কেনাকাটা করেন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ১১.৪ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে সক্রিয় ক্রেতা ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী, যাদের অংশগ্রহণ ২৪.৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা, যাদের হার ১৯.৪ শতাংশ। প্রবীণদের মধ্যে, বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম, মাত্র ২.৬ শতাংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে অনলাইন ক্রয়ের হার ৪১.৪ শতাংশ, যা অন্যান্য শ্রেণির তুলনায় অনেক বেশি। মাধ্যমিক পাসদের মধ্যে এ হার ১৯.৫ শতাংশ, প্রাথমিক পাসদের মধ্যে ৮.৩ শতাংশ এবং শিক্ষাহীনদের মধ্যে মাত্র ৩.৭ শতাংশ।

পেশাভিত্তিক হিসাবেও বৈচিত্র্য দেখা গেছে। বেকারদের মধ্যে অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, ২৩.৯ শতাংশ। কর্মজীবীদের মধ্যে এ হার ১৮.৯ শতাংশ এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১০.৫ শতাংশ।

জরিপে অনলাইন কেনাকাটায় ভোগান্তির চিত্রও উঠে এসেছে। প্রায় ১১.৪ শতাংশ ক্রেতা কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এসব সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল অর্ডার অনুযায়ী সঠিক পণ্য না পাওয়া, যা ভোগান্তির শিকার ক্রেতাদের অর্ধেকেরও বেশি উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ। পাশাপাশি দেরিতে ডেলিভারি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে দেখলে রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভোগান্তির হার তুলনামূলক বেশি, যেখানে ঢাকা বিভাগে তা সবচেয়ে কম। বয়সের দিক থেকে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

অন্যদিকে যারা এখনো অনলাইন কেনাকাটার বাইরে রয়েছেন, তাদের বড় অংশ জানিয়েছেন তারা পণ্য সরাসরি দেখে এবং যাচাই করে কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অনলাইন কেনাকাটার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন অনেকে। কিছু মানুষ দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাবকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার ছোট একটি অংশ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উদ্বেগের কথাও বলেছেন।

জরিপের সামগ্রিক চিত্র বলছে, দেশে ডিজিটাল বাণিজ্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ক্রেতা অভিজ্ঞতা, আস্থা, অবকাঠামো এবং সেবার মান নিয়ে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যা অনলাইন বাজারের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :