চিড়িয়াখানাতেও সেই মহিষের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখায় চাকরি গেল

আপলোড সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৩:১৯:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৩:৩৩:০৪ অপরাহ্ন
জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখার কারণে কিউরেটরের দায়িত্ব হারালেন ডা. মো. আতিকুর রহমান। তাকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বহাল রাখা এবং সেই নামও ভুলভাবে উপস্থাপন করাকে প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার পর কিউরেটরকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে।

তাকে অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে অবশ্য বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে জনস্বার্থে এ রদবদল করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি-সাদা রঙের মহিষটির মাথার সামনের সোনালি চুল এবং কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন।

কোরবানির পশুর হাটে মহিষটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মহিষটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। মহিষটির পরিচিতি ফলকে নাম লেখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ট্টাম্প’ লেখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রুপ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ফলকটি পরিবর্তন করে। পরে মহিষটির নামও পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি প্রাণীর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। যে কারণে মহিষটি কোরবানি দেওয়া হয়নি, পরে সেই একই নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার ওপর নামের বানান ভুল করে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর করা হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধু বানান ভুল নয়, পুরো বিষয়টি মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রনেতার নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেই নামও ভুল লেখা মোটেই গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়নি। দুটি বিষয়ই বদলির সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :