এক জেলায় বিক্রি হবে ৩৫০ কোটি টাকার গরু

আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বিশাল প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জ। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব পশুর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা যায়, কোথাও গরুর খাদ্য মাপছেন খামারিরা, কোথাও চলছে গোসল ও পরিচর্যা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কর্মব্যস্ততা। সেইসঙ্গে চলছে লাভ-লোকসানের হিসাব।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার সিরাজগঞ্জে প্রায় ১৭ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এসব পশুর বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে ৩৫০ কোটি টাকা।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার গ্রামাঞ্চলের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। অধিক লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু জেলার চাহিদা পূরণ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটে যাবে সিরাজগঞ্জের গরু। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই খাত এখন জেলার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে।

তবে সম্ভাবনাময় এই খাতের বড় দুশ্চিন্তা উৎপাদন ব্যয়। চলতি বছরে গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

শাহজাদপুর উপজেলার ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্মে’র পরিচালক শাহান উদ্দিন জানান, ছয় মাস আগে ৩৪টি গরু কিনে মোটাতাজাকরণ শুরু করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় গরুর পরিচর্যা করছেন। খাদ্যের দাম বাড়লেও ভালো বাজারমূল্যের আশা করছেন তিনি।

সদর উপজেলার ছোঁয়া মনি অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক আব্দুস সাত্তার জানান, তার খামারে ৬৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের খান অ্যাগ্রোর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। এতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণের ব্যয়ও বেড়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবো। তবে ভারতীয় গরু বাজারে এলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‌‘চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে ৬ লাখ ১৭ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। ঈদ ঘিরে এখন খামারে উৎসবের আমেজ। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :