গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে আজও ব্লকেড কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে আজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কর্মসূচি থাকলেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোনো আন্দোলন বা ফটকে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে গত রোববার সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৯ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওই দিনের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পের অবকাঠামো ভাঙচুর, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন ও সাধারণ ছাত্রসহ ১৪-১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৮ মে) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ওই দিন ডুয়েটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এতে গেটের বাইরে কর্মকর্তা, কর্মচারীরা অবস্থান করে। এ কারণে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক পুরো কার্যক্রম। পরে ক্যাম্পাসের ভেতরে শহীদ মিনারের পাশে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বিগত এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে এবং স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো রূপ ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, সেদিকেও সতর্কতা অবলম্বন করেছি। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা চলমান ছিল। একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরব এবং তা আদায়ের চেষ্টা করব। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকাল থেকে আমাদের ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। যাদের পরীক্ষা ছিল তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সকালে ডুয়েট ছাত্রদল ও বাইরের ভাড়াটিয়া এসে গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহতের চেষ্টা করলে তাদের ওপর বাইরে থেকে হামলা করা হয়। এতে ১৮ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। আমাদের এই দাবি না মানা পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
এ ঘটনার পর সোমবার রাতে গাজীপুর সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর অনেকটা শক্ত অবস্থানে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডুয়েট ক্যাম্পাসের পুরো এলাকাজুড়ে পুলিশের শক্ত অবস্থান দেখা যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কোথাও কোনো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, মিটিং বা দলবদ্ধতা চোখে পড়েনি। তবে তাদের দেওয়া ব্লকেড কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। তিনি তার দাপ্তরিক কাজ করছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ক্যাম্পাস জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতর আন্দোলন শুরু করেন। ধীরে ধীরে আন্দোলনটি সংঘাতে পরিণত হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৯ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওই দিনের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পের অবকাঠামো ভাঙচুর, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন ও সাধারণ ছাত্রসহ ১৪-১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৮ মে) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ওই দিন ডুয়েটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এতে গেটের বাইরে কর্মকর্তা, কর্মচারীরা অবস্থান করে। এ কারণে বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক পুরো কার্যক্রম। পরে ক্যাম্পাসের ভেতরে শহীদ মিনারের পাশে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বিগত এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে এবং স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো রূপ ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, সেদিকেও সতর্কতা অবলম্বন করেছি। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা চলমান ছিল। একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরব এবং তা আদায়ের চেষ্টা করব। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকাল থেকে আমাদের ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। যাদের পরীক্ষা ছিল তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সকালে ডুয়েট ছাত্রদল ও বাইরের ভাড়াটিয়া এসে গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহতের চেষ্টা করলে তাদের ওপর বাইরে থেকে হামলা করা হয়। এতে ১৮ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। আমাদের এই দাবি না মানা পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
এ ঘটনার পর সোমবার রাতে গাজীপুর সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর অনেকটা শক্ত অবস্থানে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডুয়েট ক্যাম্পাসের পুরো এলাকাজুড়ে পুলিশের শক্ত অবস্থান দেখা যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কোথাও কোনো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, মিটিং বা দলবদ্ধতা চোখে পড়েনি। তবে তাদের দেওয়া ব্লকেড কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। তিনি তার দাপ্তরিক কাজ করছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ক্যাম্পাস জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতর আন্দোলন শুরু করেন। ধীরে ধীরে আন্দোলনটি সংঘাতে পরিণত হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন