দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে রক্ষায় কোটি টাকা ব্যায়ে শুরু হয়েছে বৃহৎ পরিসরের খনন কর্মসূচি। নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে নদীর উৎসমুখে চলছে ব্যাপক খননকাজ।
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুকপাড়ার ঝিরি থেকে হালদা নদীর উৎপত্তি। এরপর নদীটি মানিকছড়ি হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা, রাউজান উপজেলা ও হাটহাজারী উপজেলা অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী দেশের মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। ১৬টি কঠোর শর্ত সংবলিত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই নদীর শাখা-প্রশাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসমুখ খনন কার্যক্রম।
বর্তমানে হালদার উজান সালদা অংশে ৪৯৬ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খনন, লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোর কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অনেক পরিবার নতুন আয়ের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের এক অমূল্য ভাণ্ডার। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হালদার যে অংশ থেকে নিষিক্ত মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়, সেটি মূলত হাটহাজারী অংশে পড়েছে। উৎসমুখ ঠিক থাকলে নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, এই লক্ষ্যেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে হালদার পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজননও বৃদ্ধি পাবে। একটি মা মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারলে কয়েক লাখ মাছের জন্ম হতে পারে।
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, মানিকছড়ির অংশটি ‘সালদা’ নামে পরিচিত। নদীর উৎসমুখের প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ৪৩ দিনব্যাপী এ প্রকল্পে ২০ জন দক্ষ ও ৪৭৬ জন অদক্ষ শ্রমিক কাজ করবেন। অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ৮০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।
হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র এবং এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যা প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ রয়েছে।
নদী রক্ষায় সরকারের এই খনন উদ্যোগকে তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুকপাড়ার ঝিরি থেকে হালদা নদীর উৎপত্তি। এরপর নদীটি মানিকছড়ি হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা, রাউজান উপজেলা ও হাটহাজারী উপজেলা অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী দেশের মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। ১৬টি কঠোর শর্ত সংবলিত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই নদীর শাখা-প্রশাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসমুখ খনন কার্যক্রম।
বর্তমানে হালদার উজান সালদা অংশে ৪৯৬ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খনন, লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোর কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অনেক পরিবার নতুন আয়ের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের এক অমূল্য ভাণ্ডার। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হালদার যে অংশ থেকে নিষিক্ত মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়, সেটি মূলত হাটহাজারী অংশে পড়েছে। উৎসমুখ ঠিক থাকলে নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, এই লক্ষ্যেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে হালদার পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজননও বৃদ্ধি পাবে। একটি মা মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারলে কয়েক লাখ মাছের জন্ম হতে পারে।
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, মানিকছড়ির অংশটি ‘সালদা’ নামে পরিচিত। নদীর উৎসমুখের প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ৪৩ দিনব্যাপী এ প্রকল্পে ২০ জন দক্ষ ও ৪৭৬ জন অদক্ষ শ্রমিক কাজ করবেন। অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ৮০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।
হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র এবং এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যা প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ রয়েছে।
নদী রক্ষায় সরকারের এই খনন উদ্যোগকে তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন