​ফরাসি প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীর ‘চড়’ মারার পেছনে ইরানি অভিনেত্রী!

আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৭:০৬:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৭:০৬:২৭ অপরাহ্ন
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিট ম্যাক্রোঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে। একটি নতুন বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ইরানি বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী গোলশিফতে ফারাহানির সঙ্গে ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানার পরই গত বছর বিদেশ সফরের সময় বিমানের ভেতরে স্বামীকে ‘চড়’ দেন ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ।

গত বছর ভিয়েতনাম সফরের সময় দম্পতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেখানে বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ব্রিজিটকে ম্যাক্রোঁর মুখ সরিয়ে দিতে দেখা যায়। পরে এই ঘটনা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও ম্যাক্রোঁ দম্পতি দাবি করেছিলেন, তারা কেবল ‘মজা’ করছিলেন।

ফরাসি সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান তারদিফের লেখা ‘অ্যান (অলমোস্ট) পারফেক্ট কাপল’ (An (Almost) Perfect Couple) শিরোনামের নতুন বইয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করা হয়। 

বইটিতে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে ৪৮ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁ এবং ৪২ বছর বয়সী গোলশিফতে ফারাহানির  ‘প্লাটোনিক সম্পর্ক’ ছিল।

বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত বইটিতে দাবি করা হয়, ৭৩ বছর বয়সী ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ বিমানে স্বামীর ফোনে ভুলবশত অভিনেত্রীর পাঠানো একটি বার্তা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

আরটিএল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখক ফ্লোরিয়ান তারদিফ বলেন, সম্পর্কটি ‘নিষ্কাম’ হলেও তাদের কিছু কথোপকথন ‘সীমা অতিক্রম করেছিল’। 

তার দাবি, ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকেই তিনি এসব বার্তার তথ্য পেয়েছেন।

বইটিতে আরও দাবি করা হয়, এক বার্তায় ফারাহানি ম্যাক্রোঁকে লিখেছিলেন, ‘আপনাকে আমার খুব আকর্ষণীয় মনে হয়।’ জবাবে ম্যাক্রোঁ নাকি লিখেছিলেন, ‘আমার কাছেও তোমাকে খুব সুন্দরী মনে হয়।’

তারদিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বিমান থেকে নামার ঠিক আগে ব্রিজিট এই বার্তাগুলো দেখেন। এরপরই দম্পতির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে জনসমক্ষে চলে আসে।

তবে এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে ব্রিজিট ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ মহল। ফার্স্ট লেডির এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পলিটিকো-কে জানান, ঘটনাটির সঙ্গে অভিনেত্রীর কথিত সম্পর্কের কোনো যোগ নেই।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও একই দাবি করেছে। যদিও এলিসি প্রাসাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বইয়ের অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে প্রেসিডেন্সি ঘটনাটিকে ‘ভুয়া খবর’ এবং ‘ঠাট্টা-তামাশা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

অন্যদিকে গোলশিফতে ফারাহানি, যিনি অতীতেও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন, তিনিও নতুন বইয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

২০২৫ সালের মে মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের শুরুতে ভিয়েতনামে অবতরণের পর প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ হঠাৎ করে প্রেসিডেন্টের মুখ সরিয়ে দিচ্ছেন। পরে ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এবং তারা কেবল হাস্যরস করছিলেন।

তবুও ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরে বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :