হান্টাভাইরাস বলতে এমন এক ধরনের ভাইরাসকে বোঝায়, যা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহে থাকে। প্রধানত ইঁদুরের শুকনো মল থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা শ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সিডিসি)-এর মতে, সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণ ঘটে। যদিও বিরল, তবুও ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রথমটি হলো হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বা এইচপিএস। এতে সাধারণত শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দেখা যায়। পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি এবং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সিডিসি'র মতে, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় রোগটি হলো হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম বা এইচএফআরএস, যা আরও গুরুতর এবং প্রধানত কিডনিকে আক্রান্ত করে।
পরবর্তী উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকলতা।
এর চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
হান্টাভাইরাস সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।
উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসার পরামর্শ দেয় সিডিসি, যার মধ্যে থাকতে পারে অক্সিজেন থেরাপি, মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এবং এমনকি ডায়ালাইসিস।
গুরুতর উপসর্গ থাকা রোগীদের আইসিইউতে ভর্তি করতে হতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে কারও কারও ইন্টিউবেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস প্রয়োজন হতে পারে।
ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সিডিসি বাড়ি বা কর্মস্থলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেয়।
সংস্থাটি আরও বলেছে, যেসব জায়গা দিয়ে ইঁদুর ঘরে ঢুকতে পারে, যেমন বেসমেন্ট বা চিলেকোঠার প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে হবে।
ইঁদুরের মল পরিষ্কার করার সময় দূষিত বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢোকা এড়াতে মাস্ক বা সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বে কী পরিমাণ মানুষ হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত হয়?
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি প্রতিবেদনের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক এক লাখ ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে হান্টাভাইরাসের গুরুতর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়, যার বড় অংশই ইউরোপ ও এশিয়ায়। আর এসব সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি সাধারণত চীনে ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে হান্টাভাইরাস নজরদারি শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৮৯০টি কেস শনাক্ত হয়েছে।
তবে হান্টাভাইরাসের একটি প্রধান ধরন সিউল ভাইরাস বহন করে নরওয়ে ইঁদুর, যা ব্রাউন র্যাট নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী এই ইঁদুর দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হন্ডিয়াস নামক একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন (অ্যান্ডিস স্ট্রেইন) মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
দ্যা টেলিগ্রাফের বরাত জানা যায়, সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে এই ভাইরাস ছড়ালেও, অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্লেষ্মায় এই ভাইরাস থাকে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের চেয়ে যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখতে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন।
তারাই জাহাজে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেন। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। পথিমধ্যে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪শে এপ্রিল বেশ কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অস্কারজয়ী অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া হান্টাভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত শ্বাসজনিত রোগে মারা যান। চিকিৎসা তদন্তকারীদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সাধারণ ধরন এইচপিএস-এ আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
যে বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়, সেখানে বাইরের অন্যান্য ঘরে ইঁদুরের বাসা ও কিছু মৃত ইঁদুর পাওয়া যায়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে আরাকাওয়া ইন্টারনেটে ফ্লু ও কোভিডের উপসর্গ সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন।
নতুন মহামারির সূচনা?
এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা কোনো 'মহামারির সূচনা নয়' বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটির সংক্রামক রোগের মহামারি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ছয় বছর আগে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আর এটি এক নয়, কারণ হান্টাভাইরাস ছড়ায় "ঘনিষ্ঠ, অন্তরঙ্গ সংস্পর্শের" মাধ্যমে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডাচ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস থেকে সম্প্রতি নেমে যাওয়া কয়েক ডজন মানুষকে শনাক্ত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
সাধারণত হান্টাভাইরাস ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ালেও সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হয়েছে বলে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক ও সহজে ছড়িয়ে পড়া রোগের বিপরীতে, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী হান্টাভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইনটি ততটা সংক্রামক নয়।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ সম্ভব হলেও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি কম রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের (৭ মে) ব্রিফিংয়ে ভ্যান কেরখোভে বলেন, "এটি কোভিড নয়, এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়—এটি একেবারেই ভিন্নভাবে ছড়ায়"।
তিনি জানান, এমভি হন্ডিয়াসে "সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক" করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে থাকা বা তাদের দেখভাল করছেন এমন ব্যক্তিদের "উচ্চ মাত্রার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম" ব্যবহার করা উচিত।
একই ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, তার সংস্থা "সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে"।
তিনি বলেন, নিশ্চিত হওয়া প্রথম দুই আক্রান্ত ব্যক্তি "আর্জেন্টিনা, চিলি এবং উরুগুয়ে সফর করেছিলেন। তারা পাখি দেখতে বেরিয়েছিলেন এবং এমন সব স্থানে তারা গিয়েছিলেন, যেখানে ভাইরাস বহনকারী হিসেবে পরিচিত ইঁদুরের প্রজাতি উপস্থিত ছিল"।
ডা. টেড্রোস জানান, যাদের উপসর্গ রয়েছে এবং যারা যাত্রীদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন—এমন আরও কিছু মানুষের খবর ডব্লিউএইচওর জানা আছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই রোগের ইনকিউবেশন সময়—যা ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে—বিবেচনায় নিয়ে আরও সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সিডিসি)-এর মতে, সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণ ঘটে। যদিও বিরল, তবুও ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
এই ভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রথমটি হলো হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম বা এইচপিএস। এতে সাধারণত শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দেখা যায়। পরে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি এবং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সিডিসি'র মতে, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় রোগটি হলো হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম বা এইচএফআরএস, যা আরও গুরুতর এবং প্রধানত কিডনিকে আক্রান্ত করে।
পরবর্তী উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকলতা।
এর চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
হান্টাভাইরাস সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।
উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসার পরামর্শ দেয় সিডিসি, যার মধ্যে থাকতে পারে অক্সিজেন থেরাপি, মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এবং এমনকি ডায়ালাইসিস।
গুরুতর উপসর্গ থাকা রোগীদের আইসিইউতে ভর্তি করতে হতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে কারও কারও ইন্টিউবেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস প্রয়োজন হতে পারে।
ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সিডিসি বাড়ি বা কর্মস্থলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেয়।
সংস্থাটি আরও বলেছে, যেসব জায়গা দিয়ে ইঁদুর ঘরে ঢুকতে পারে, যেমন বেসমেন্ট বা চিলেকোঠার প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে হবে।
ইঁদুরের মল পরিষ্কার করার সময় দূষিত বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢোকা এড়াতে মাস্ক বা সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বে কী পরিমাণ মানুষ হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত হয়?
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি প্রতিবেদনের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক এক লাখ ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে হান্টাভাইরাসের গুরুতর সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়, যার বড় অংশই ইউরোপ ও এশিয়ায়। আর এসব সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি সাধারণত চীনে ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে হান্টাভাইরাস নজরদারি শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৮৯০টি কেস শনাক্ত হয়েছে।
তবে হান্টাভাইরাসের একটি প্রধান ধরন সিউল ভাইরাস বহন করে নরওয়ে ইঁদুর, যা ব্রাউন র্যাট নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী এই ইঁদুর দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হন্ডিয়াস নামক একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন (অ্যান্ডিস স্ট্রেইন) মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
দ্যা টেলিগ্রাফের বরাত জানা যায়, সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে এই ভাইরাস ছড়ালেও, অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্লেষ্মায় এই ভাইরাস থাকে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের চেয়ে যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখতে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন।
তারাই জাহাজে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেন। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। পথিমধ্যে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪শে এপ্রিল বেশ কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অস্কারজয়ী অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া হান্টাভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত শ্বাসজনিত রোগে মারা যান। চিকিৎসা তদন্তকারীদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সাধারণ ধরন এইচপিএস-এ আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
যে বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়, সেখানে বাইরের অন্যান্য ঘরে ইঁদুরের বাসা ও কিছু মৃত ইঁদুর পাওয়া যায়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে আরাকাওয়া ইন্টারনেটে ফ্লু ও কোভিডের উপসর্গ সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন।
নতুন মহামারির সূচনা?
এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা কোনো 'মহামারির সূচনা নয়' বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটির সংক্রামক রোগের মহামারি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ছয় বছর আগে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আর এটি এক নয়, কারণ হান্টাভাইরাস ছড়ায় "ঘনিষ্ঠ, অন্তরঙ্গ সংস্পর্শের" মাধ্যমে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডাচ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস থেকে সম্প্রতি নেমে যাওয়া কয়েক ডজন মানুষকে শনাক্ত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
সাধারণত হান্টাভাইরাস ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ালেও সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হয়েছে বলে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক ও সহজে ছড়িয়ে পড়া রোগের বিপরীতে, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী হান্টাভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইনটি ততটা সংক্রামক নয়।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ সম্ভব হলেও বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি কম রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের (৭ মে) ব্রিফিংয়ে ভ্যান কেরখোভে বলেন, "এটি কোভিড নয়, এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়—এটি একেবারেই ভিন্নভাবে ছড়ায়"।
তিনি জানান, এমভি হন্ডিয়াসে "সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক" করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে থাকা বা তাদের দেখভাল করছেন এমন ব্যক্তিদের "উচ্চ মাত্রার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম" ব্যবহার করা উচিত।
একই ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, তার সংস্থা "সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে"।
তিনি বলেন, নিশ্চিত হওয়া প্রথম দুই আক্রান্ত ব্যক্তি "আর্জেন্টিনা, চিলি এবং উরুগুয়ে সফর করেছিলেন। তারা পাখি দেখতে বেরিয়েছিলেন এবং এমন সব স্থানে তারা গিয়েছিলেন, যেখানে ভাইরাস বহনকারী হিসেবে পরিচিত ইঁদুরের প্রজাতি উপস্থিত ছিল"।
ডা. টেড্রোস জানান, যাদের উপসর্গ রয়েছে এবং যারা যাত্রীদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন—এমন আরও কিছু মানুষের খবর ডব্লিউএইচওর জানা আছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই রোগের ইনকিউবেশন সময়—যা ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে—বিবেচনায় নিয়ে আরও সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে