​রূপপুরের বিদ্যুৎ কত টাকায় বিক্রি হবে, সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও

আপলোড সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৩:৫০:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৩:৫০:৫৮ অপরাহ্ন
উৎপাদনের দোরগোড়ায় পৌঁছালেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রয়-বিক্রয় মূল্য। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— বহুল আলোচিত এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ শেষ পর্যন্ত কত টাকায় পাওয়া যাবে এবং তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে কি না।

১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্পের মেয়াদও।

২০১৩-১৪ সালের দিকে ফিজিবিলিটি টেস্ট করে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ জানিয়েছিল, প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগে ১৫৮ ডলার পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে রাশিয়ার করা ফিজিবিলিটি টেস্টে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬২ পয়সা।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ)।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে পিপিএ নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। চুক্তির টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে তা বিপিডিবির সঙ্গে বিনিময়ও হয়েছে। উভয়পক্ষ কিছু পর্যবেক্ষণ ও মতামত দিয়েছে। 

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে কয়েক দফা আলোচনা শেষে চুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা এগোবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র না পাওয়ায় পিপিএ চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দাম নির্ধারণে রূপপুর কর্তৃপক্ষের ধীরগতির জন্যই চুক্তিটি ঝুলে আছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, আর্থিক বিষয়সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে শেয়ার করেনি। বিশেষ করে জ্বালানির সম্ভাব্য দাম, ভবিষ্যৎ ব্যয় এবং বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনার মতো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এসব তথ্য দ্রুত দিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুতই পিপিএ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সবমিলিয়ে, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— এই বিদ্যুৎ শেষ পর্যন্ত কত টাকায় মিলবে এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহনীয় হবে। সেটিই দেখার অপেক্ষা। সূত্র: চ্যানেল ২৪

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :