কী দোষ ছিলো ঘোড়াগুলোর!

আপলোড সময় : ০৪-০৫-২০২৬ ০৪:১০:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৫-২০২৬ ০৪:২৩:০৩ অপরাহ্ন
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ঘোরাফেরা করছিল বেওয়ারিশ চার ঘোড়া। রাস্তার ধারের ঘাস লতাপাতা আর মানুষের ফেলে দেওয়া ফল-সবজির উচ্ছিষ্ট খেয়েই কাটছিল ওদের দিন। তিনদিন আগে দুটি ঘোড়ার শরীরে গভীর ক্ষত দেখেন স্থানীয়রা। আক্রোশের বশে কেউ হয়তো তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছেন।

বিষয়টি নজরে এলে এক যুবক প্রাণিসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করেন। তবে তাদের কাছ থেকে তেমন সারা না পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। তার এ পোস্টেই ঘোড়া দুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন বেসরকারি ভেটেরিনারি এক চিকিৎসক। ওই চিকিৎসক আর যুবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চিকিৎসা পেয়ে এখন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছে ঘোড়াগুলো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া বাইপাস এলাকায় কয়েক মাস আগে চারটি ঘোড়া দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘোড়াগুলোর মধ্যে একটি পুরুষ, একটি মাদি আর বাকি দুটি বাচ্চা। ঘোড়াগুলোর বিচরণ ছিল রাস্তার ধারেই। তারা ওই এলাকার পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে খাবার সন্ধান করতো। রাতে খোলা জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তো।

সম্প্রতি কিছু মানুষের আক্রোশের শিকার হয় দুটি ঘোড়া। অভিযোগ উঠেছে, তরমুজ খাওয়ায় ঘোড়া দুটির শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ী। আঘাতের ফলে তাদের শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এরপর ওই অবস্থায় ঘোড়া দুটি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে শনিবার (২ মে) নজরে আসে ইমরান আল নাজির নামের এক যুবকের। তিনি ঘোড়া দুটির অবস্থা দেখে যোগাযোগ করেন জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগে। একাধিকবার যোগাযোগ ও চেষ্টার পর সেদিন দুপুরে এক চিকিৎসক এসে শুধু নামমাত্র চিকিৎসা দিয়ে চলে যান। তবে ঘোড়া দুটির ক্ষত ছিল গভীর।

পরে ঘোড়া দুটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন নাজির। সেখান থেকে বিষয়টি নজরে আসে ডামুড্যা উপজেলার বেসরকারি ভেটেরিনারি চিকিৎসক সবুজ খানের। তিনি নিজ উদ্যোগে ঘোড়া দুটির চিকিৎসা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে রোববার (৩ মে) বিকেলে শুরু হয় চিকিৎসা। ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয় সেলাই ও ওষুধ। চিকিৎসা পেয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেছে ঘোড়া দুটি।

ঘোড়া দুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসা তরুণ ইমরান আল নাজির বলেন, ‌‘ঘোড়া দুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছিল। পরে নিজ দায়িত্ব থেকেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছি ঘোড়া দুটি স্থানীয় তরমুজ বিক্রেতারা আঘাত করেন। যারাই এ ধরনের অমানবিক কাজ করেছেন, তাদের যেন প্রশাসন বিচারের আওতায় আনে।’

ঘোড়া দুটির চিকিৎসা দেওয়া ভেটেরিনারি চিকিৎসক সবুজ খান বলেন, ‘একটি ঘোড়ার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। আপাতত ঘোড়া দুটিকে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। যদি নিয়মিত চিকিৎসা করানো যায়, তাহলে অবলা প্রাণীগুলো সুস্থ হয়ে উঠবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অবলা প্রাণীগুলো কারও কোনো ক্ষতি না করেই বিচরণ করছিল। কিন্তু কিছু খারাপ মানুষ অমানবিক আচরণ করে ওদের ক্ষতবিক্ষত করে। বিষয়টি সত্যিই অমানবিক।’

বর্তমানে ঘোড়া দুটির চিকিৎসা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এসেছেন। প্রয়োজনে আজও (সোমবার) গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন শনিবার ছিল। ছুটির দিন থাকায় হয়তো আমরা যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারিনি। আর ঘোড়াটি যেভাবে আহত হয়েছে, তার চিকিৎসার জন্য লোকবলের প্রয়োজন ছিল। তবে আমরা এখন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবো। যারা প্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেন, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :