সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস এই বন। তবে বন আবারও ভয়াবহ আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বনজীবীদের জন্য। বিশেষ করে দস্যুদের ভয়ে বনে যাননি অনেক মৌয়াল। ফলে মধু সংগ্রহ নেমে এসেছে অর্ধেকে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর মধু সংগ্রহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় একদিকে যেমন বনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীদের জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব কমছে বন বিভাগের।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মৌয়াল শেখ মিজান বলেন, বনে যাওয়ার উপায় নেই, দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা না করে মধু সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দস্যুদের হাতে ধরা পড়লে প্রতি নৌকায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সঙ্গে মারধর ও নির্যাতন তো আছেই। আর আগে থেকে কথা বলে গেলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় যাওয়া যায়। এখন এত টাকা দেবই বা কীভাবে, আর যাবই বা কীভাবে? তাই এ বছর বনে যাইনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল, শরণখোলা ও মোংলার একাধিক মৌয়াল বলেন, মৌসুমে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যান। মাঝে কিছু বছর ভালো থাকলেও বর্তমানে বনদস্যুদের টাকা না দিয়ে কেউ বনে যেতে পারে না। আগে থেকে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে তবেই যেতে হয়। টাকা না দিয়ে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ধারদেনা করে সংসার চলে, দস্যুদের টাকা কীভাবে দেব—এই প্রশ্ন তুলে তারা আরও বলেন, প্রশাসন যদি এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে আমাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিক।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে মধু আহরণের প্রথম মৌসুম শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। মৌসুম শুরু হলেও এবার তুলনামূলক কম 'পাস' নিচ্ছেন মৌয়ালরা। চলতি মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাট এলাকায় ১ হাজার কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বনদস্যুদের আতঙ্কে মৌয়ালরা বনে না যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছর ১২০ জন মৌয়াল ২১টি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছেন জানিয়ে শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর শরণখোলা স্টেশন থেকে মৌসুমের প্রথম দিনেই মৌয়ালরা ২৯টি পাস নিয়েছিল। কিন্তু এ বছর দস্যুদের আতঙ্কে পুরো মৌসুমজুড়ে ২৯টি পাস নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে এখন পর্যন্ত ২৫১ জন মৌয়াল ৯৩টি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছেন। তবে জাহাঙ্গীর বাহিনী চাঁদা দাবি করায় ৬টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দস্যু আতঙ্কে মৌয়ালদের বনে যেতে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এ কথা সত্য। আমরা নিরাপত্তায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত একটি সমাধান হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর মধু সংগ্রহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় একদিকে যেমন বনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীদের জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব কমছে বন বিভাগের।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মৌয়াল শেখ মিজান বলেন, বনে যাওয়ার উপায় নেই, দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা না করে মধু সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দস্যুদের হাতে ধরা পড়লে প্রতি নৌকায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সঙ্গে মারধর ও নির্যাতন তো আছেই। আর আগে থেকে কথা বলে গেলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় যাওয়া যায়। এখন এত টাকা দেবই বা কীভাবে, আর যাবই বা কীভাবে? তাই এ বছর বনে যাইনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল, শরণখোলা ও মোংলার একাধিক মৌয়াল বলেন, মৌসুমে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যান। মাঝে কিছু বছর ভালো থাকলেও বর্তমানে বনদস্যুদের টাকা না দিয়ে কেউ বনে যেতে পারে না। আগে থেকে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে তবেই যেতে হয়। টাকা না দিয়ে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ধারদেনা করে সংসার চলে, দস্যুদের টাকা কীভাবে দেব—এই প্রশ্ন তুলে তারা আরও বলেন, প্রশাসন যদি এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে আমাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিক।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে মধু আহরণের প্রথম মৌসুম শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। মৌসুম শুরু হলেও এবার তুলনামূলক কম 'পাস' নিচ্ছেন মৌয়ালরা। চলতি মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাট এলাকায় ১ হাজার কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বনদস্যুদের আতঙ্কে মৌয়ালরা বনে না যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছর ১২০ জন মৌয়াল ২১টি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছেন জানিয়ে শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো. খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর শরণখোলা স্টেশন থেকে মৌসুমের প্রথম দিনেই মৌয়ালরা ২৯টি পাস নিয়েছিল। কিন্তু এ বছর দস্যুদের আতঙ্কে পুরো মৌসুমজুড়ে ২৯টি পাস নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে এখন পর্যন্ত ২৫১ জন মৌয়াল ৯৩টি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছেন। তবে জাহাঙ্গীর বাহিনী চাঁদা দাবি করায় ৬টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দস্যু আতঙ্কে মৌয়ালদের বনে যেতে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এ কথা সত্য। আমরা নিরাপত্তায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত একটি সমাধান হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন