হবিগঞ্জে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের পাকা বোরো ধান। জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এমন বিপর্যয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। দিন যত যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়ছে, আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। জেলার তাড়ানগাঁও গ্রামের কৃষাণী সন্ধ্যা রানী দাশের চোখে এখন শুধুই হতাশার ছাপ। ডুবে যাওয়া জমির দিকে তাকিয়ে তার বুকভরা কষ্ট যেন থামতেই চায় না।
হাওরপাড়ে কথা হয় সন্ধ্যা রানী দাশের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ১০ কিয়ার পাকা ধান ছিল তার পরিবারের একমাত্র সম্বল। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্ন— ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধ করে সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু ঘরে তোলার আগ মুহূর্তেই ভারী বৃষ্টিতে সব তলিয়ে যায় পানির নিচে। এখন ঋণের বোঝা, আর ১০ জনের সংসার— সবমিলিয়ে এক অসহায় বাস্তবতায় দিন কাটছে তার।
এ চিত্র শুধু সন্ধ্যা রানী দাশের নয়; হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের অবস্থা এখন এরকমই। হাওর এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও পাকা ধান পানির নিচে, কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে এক মৌসুমের ফসল হারিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরসহ প্রায় ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমি। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসের বিশেষ সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। তাদের মতে, দ্রুত সহায়তা না পেলে অনেক পরিবারই চরম মানবিক সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা প্রস্তুত শেষ হলে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হাওরের কৃষকরা প্রতিবছরই প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। তবে এবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে, অনেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। স্বপ্ন, শ্রম— সবই যেন ডুবে গেছে পানির নিচে। রয়ে গেছে শুধু ঋণ ও পরিবার
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
হাওরপাড়ে কথা হয় সন্ধ্যা রানী দাশের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ১০ কিয়ার পাকা ধান ছিল তার পরিবারের একমাত্র সম্বল। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্ন— ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধ করে সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু ঘরে তোলার আগ মুহূর্তেই ভারী বৃষ্টিতে সব তলিয়ে যায় পানির নিচে। এখন ঋণের বোঝা, আর ১০ জনের সংসার— সবমিলিয়ে এক অসহায় বাস্তবতায় দিন কাটছে তার।
এ চিত্র শুধু সন্ধ্যা রানী দাশের নয়; হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের অবস্থা এখন এরকমই। হাওর এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও পাকা ধান পানির নিচে, কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে এক মৌসুমের ফসল হারিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরসহ প্রায় ১১ হাজার ৫৩৭ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমি। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসের বিশেষ সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। তাদের মতে, দ্রুত সহায়তা না পেলে অনেক পরিবারই চরম মানবিক সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা প্রস্তুত শেষ হলে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হাওরের কৃষকরা প্রতিবছরই প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। তবে এবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে, অনেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। স্বপ্ন, শ্রম— সবই যেন ডুবে গেছে পানির নিচে। রয়ে গেছে শুধু ঋণ ও পরিবার
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন