সংকটের মধ্যে দাম বৃদ্ধি: দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৩:০২:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৩:৫৮:২৭ অপরাহ্ন
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। বিশেষ করে ডিজেল না পাওয়ায় বোরোসহ বিভিন্ন আবাদি জমির সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা। পাশাপাশি সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বোরো ধান, আম, শাকসবজি ও পাট উৎপাদনে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন। সেইসঙ্গে ফসল উৎপাদনে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় কম ডিজেল পাওয়ায় ও খুচরা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। নতুন করে সরকার ডিজেলের দাম বাড়ালেও চাহিদামতো পাচ্ছেন না তারা। আবার হঠাৎ করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। যা কৃষকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কীভাবে খরচ জোগাবেন তারা, তার কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।

কৃষকরা বলছেন, কৃষিতে সেচ কাজে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। দাম বাড়ার ফলে সেচ পাম্প চালাতে কৃষকদের অনেক বেশি টাকা খরচ হবে। চাষের জন্য ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর এবং ধান মাড়াই মেশিনের ভাড়াও বেড়ে যাবে। এরপরও যদি ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া যায়, তবে কৃষকদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। বাড়তি খরচ মেটাতে অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হবেন। খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে চাষাবাদের পরিমাণ কমিয়ে দেবেন, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠে মাঠে বোরো ধানের শীষ বের হচ্ছে। এই সময়ে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, তবে ডিজেলের অভাবে তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক মাসের বেশি সময় ধরে তেলের সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না ডিজেল। এরই মধ্যে দাম বাড়ায় তা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমি চাষ থেকে সেচ, আবার কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০/৩০ টাকার অতিরিক্ত দামেও মিলছে না ডিজেল। এতে উৎপাদন খরচ ২৫ শতাংশ বাড়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তারা। কারণ উৎপাদনের খরচ বাড়লেও সে হিসাবে কৃষির দাম বাড়ে না।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানোর তথ্য জানায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১১৫ টাকা। আর কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :