পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে ইলিশের দাম। দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারি বাজারে সীমিত পরিসরে ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশের দেখা মিললেও বড় সাইজের ইলিশ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা খুচরা বাজারগুলোতেও।
বাজারে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং আকাশ ছোঁয়া দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারা, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দাম অনেকটা বেড়েছে জানিয়েছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। হাতেগোনা দু-চারটি মাছের দেখা মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মণ দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা মণ দরে। পাইকারি এ বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে।
শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজারসহ জেলার সব বাজারে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। দুষ্প্রাপ্ততার কারণে বিগত বছরগুলোর সব রেকর্ড ভেঙে সবেচেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। তাই ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়ার মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা নয়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “পহেলা বৈশাখের পরের দিন বাড়িতে মেয়ে জামাইয়ের স্বজনরা বেড়াতে আসবেন। তাই ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। বাজারে ১ কেজি ওজনের একটি মাছও পাইনি। হাতে গোনা দুই থেকে তিনজন মাছ বিক্রেতার কাছে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের কিছু ইলিশ থাকলেও দাম অনেক চড়া। ২০০০ টাকা করে চাচ্ছে। এতো দামে ইলিশে ক্রয়ের ক্ষমতা আসলে আমাদের নেই।”
অপর ক্রেতা কবির হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখের দিন আমার ছেলে-মেয়েরা পান্তা ইলিশ খাওয়ার আবদারের কারণে বাজারে এসেছিলাম। বাজারে ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। বিক্রেতারা মাছের দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। যে কারণে ইলিশ না কিনেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।”
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৃধা ফিসের স্বত্ত্বাধিকারী সালাউদ্দিন মৃধা বলেন, “মাছের দাম বাড়ানো বা কমানো আমাদের হাতে নেই। এখানে নিলামের মাধ্যমে সব ধরনের মাছ কেনাবেচা হয়। ডিজেলের ঘাটতির কারণে বেশির ভাগ জেলে সমুদ্রে যেতে না পারায় এখন ইলিশের ব্যাপক সংকট চলছে। সাগর থেকে যে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরছে তার মধ্যে বেশির ভাগই ইলিশ শূন্য। বাজারে ইলিশের পরিমাণ খুব কম হওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিলামের মাধ্যমে বেশি দামে মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।”
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “ইলিশের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং করা হবে। কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী তার ক্রয়ের চেয়ে খুচরা বাজারে অধিক দামে ইলিশ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
বাজারে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং আকাশ ছোঁয়া দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তেল সংকটে পর্যাপ্ত ফিসিং করতে না পারা, ১৫ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ, বাজারে চাহিদার চেয়ে ইলিশের অপ্রতুলতা এবং পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দাম অনেকটা বেড়েছে জানিয়েছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রামের ইলিশ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। হাতেগোনা দু-চারটি মাছের দেখা মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মণ দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা মণ দরে। পাইকারি এ বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে।
শহরের নিউ মার্কেটের মাছ বাজারসহ জেলার সব বাজারে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা দরে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। দুষ্প্রাপ্ততার কারণে বিগত বছরগুলোর সব রেকর্ড ভেঙে সবেচেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। তাই ইলিশের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়ার মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা নয়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “পহেলা বৈশাখের পরের দিন বাড়িতে মেয়ে জামাইয়ের স্বজনরা বেড়াতে আসবেন। তাই ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। বাজারে ১ কেজি ওজনের একটি মাছও পাইনি। হাতে গোনা দুই থেকে তিনজন মাছ বিক্রেতার কাছে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের কিছু ইলিশ থাকলেও দাম অনেক চড়া। ২০০০ টাকা করে চাচ্ছে। এতো দামে ইলিশে ক্রয়ের ক্ষমতা আসলে আমাদের নেই।”
অপর ক্রেতা কবির হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখের দিন আমার ছেলে-মেয়েরা পান্তা ইলিশ খাওয়ার আবদারের কারণে বাজারে এসেছিলাম। বাজারে ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। বিক্রেতারা মাছের দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। যে কারণে ইলিশ না কিনেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।”
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৃধা ফিসের স্বত্ত্বাধিকারী সালাউদ্দিন মৃধা বলেন, “মাছের দাম বাড়ানো বা কমানো আমাদের হাতে নেই। এখানে নিলামের মাধ্যমে সব ধরনের মাছ কেনাবেচা হয়। ডিজেলের ঘাটতির কারণে বেশির ভাগ জেলে সমুদ্রে যেতে না পারায় এখন ইলিশের ব্যাপক সংকট চলছে। সাগর থেকে যে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরছে তার মধ্যে বেশির ভাগই ইলিশ শূন্য। বাজারে ইলিশের পরিমাণ খুব কম হওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিলামের মাধ্যমে বেশি দামে মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।”
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “ইলিশের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং করা হবে। কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী তার ক্রয়ের চেয়ে খুচরা বাজারে অধিক দামে ইলিশ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন