ভোলার বিচ্ছিন্ন চর চটকি মারায় শত শত একর জমি জোরপূর্বক দখল করে বর্গা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ও ভোলার ভেদুরিয়ার কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভোলার ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। অবশেষে তারা জমি দখল করে নিয়েছে। এতে প্রকৃত জমির মালিকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে শ্রীপুর ও ভেদুরিয়ার চক্রটির কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করা কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের দাবি, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে তরমুজ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, ভোলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চর চটকি মারায় প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোলার জমির মালিক ও কৃষকরা সেখানে তরমুজ, ধানসহ নানা ফসল চাষ করে আসছিলেন। জমির মালিকরা নিজেদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের বর্গা দিতেন।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে এতদিন দখলে ছিলেন প্রকৃত জমির মালিকরা। অবশেষে গত বছরের শেষ দিকে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে অন্য কৃষকদের বর্গা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভোলার কয়েকজন মালিক।
ভোলার ভেদুরিয়ার মো. ফারুক জানান, চর চটকি মারায় সরকারিভাবে তাদের প্রায় দুই একর জমি বন্দোবস্ত রয়েছে। এ বছর তিনি, শহীদ ও লোকমান ফরাজিসহ বেশ কয়েকজন কয়েকশ একর জমি বর্গা নিয়েছেন প্রকৃত বন্দোবস্ত পাওয়া জমির মালিকদের কাছ থেকে। কিন্তু শ্রীপুর ও ভেদুরিয়ার একটি চক্র তাদের ওই জমিতে যেতে দেয়নি। তাদের নিজেদের জমিসহ বর্গা নেওয়া জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, বারবার দখলদারদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান হয়নি। তারা নিজেদের জমি ফেরত চান।
জমির আরেক মালিক আব্দুর রশিদ মাস্টার জানান, চর চটকি মারা সরকারিভাবে ১৯৮২-৮৩ সালে বন্দোবস্ত হয় এবং ভোলার ভূমিহীনরা জমি পান। সেখান থেকে স্থানীয় কৃষকরাই চাষাবাদ করে আসছেন। এ বছরও জমির মালিকরা তরমুজ চাষিদের জমি বর্গা দেন। কিন্তু একটি চক্র জোরপূর্বক জমি দখল করে অন্যদের কাছে বর্গা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শফিজল হক জানান, তিনি নিজে ও অন্য কৃষকদের কাছে জমি বর্গা দিয়ে সংসার চালান। কিন্তু এ বছর তার জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। তিনি জমি ফেরত ও দখলদারদের বিচার দাবি করেন। ভোলার জমির মালিকদের কাছ থেকে বর্গা নেওয়া মো. হারুন জানান, তিনি নগদ টাকায় জমি বর্গা নিলেও তাকে জমিতে যেতে দেওয়া হয়নি। তার নেওয়া জমি অন্যদের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।
এদিকে শ্রীপুর ও ভেদুরিয়ার চক্রটির কাছ থেকে জমি বর্গা নেওয়া কৃষক মো. মোতাহার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তারা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন তরমুজ কাটার সময় হলেও জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তারা দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান চান। তবে অভিযুক্ত শ্রীপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান জমাদ্দার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো কার্ডধারীর জমি দখল করেননি। তাদের দাবি, তারা নিজেদের এবং সরকারি খাস জমি নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ভোলার কিছু লোক ভুয়া কার্ড তৈরি করে এতদিন জমি ভোগ করেছেন।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম জানান, এটি মূলত সীমানা বিরোধ। উভয় পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করলেও তাদের কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জমির জরিপ কাজ চলছে, জরিপ শেষে প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
সরেজমিনে জানা গেছে, ভোলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চর চটকি মারায় প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোলার জমির মালিক ও কৃষকরা সেখানে তরমুজ, ধানসহ নানা ফসল চাষ করে আসছিলেন। জমির মালিকরা নিজেদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের বর্গা দিতেন।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে এতদিন দখলে ছিলেন প্রকৃত জমির মালিকরা। অবশেষে গত বছরের শেষ দিকে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে অন্য কৃষকদের বর্গা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন জমির বন্দোবস্ত পাওয়া ভোলার কয়েকজন মালিক।
ভোলার ভেদুরিয়ার মো. ফারুক জানান, চর চটকি মারায় সরকারিভাবে তাদের প্রায় দুই একর জমি বন্দোবস্ত রয়েছে। এ বছর তিনি, শহীদ ও লোকমান ফরাজিসহ বেশ কয়েকজন কয়েকশ একর জমি বর্গা নিয়েছেন প্রকৃত বন্দোবস্ত পাওয়া জমির মালিকদের কাছ থেকে। কিন্তু শ্রীপুর ও ভেদুরিয়ার একটি চক্র তাদের ওই জমিতে যেতে দেয়নি। তাদের নিজেদের জমিসহ বর্গা নেওয়া জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, বারবার দখলদারদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান হয়নি। তারা নিজেদের জমি ফেরত চান।
জমির আরেক মালিক আব্দুর রশিদ মাস্টার জানান, চর চটকি মারা সরকারিভাবে ১৯৮২-৮৩ সালে বন্দোবস্ত হয় এবং ভোলার ভূমিহীনরা জমি পান। সেখান থেকে স্থানীয় কৃষকরাই চাষাবাদ করে আসছেন। এ বছরও জমির মালিকরা তরমুজ চাষিদের জমি বর্গা দেন। কিন্তু একটি চক্র জোরপূর্বক জমি দখল করে অন্যদের কাছে বর্গা দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শফিজল হক জানান, তিনি নিজে ও অন্য কৃষকদের কাছে জমি বর্গা দিয়ে সংসার চালান। কিন্তু এ বছর তার জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। তিনি জমি ফেরত ও দখলদারদের বিচার দাবি করেন। ভোলার জমির মালিকদের কাছ থেকে বর্গা নেওয়া মো. হারুন জানান, তিনি নগদ টাকায় জমি বর্গা নিলেও তাকে জমিতে যেতে দেওয়া হয়নি। তার নেওয়া জমি অন্যদের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।
এদিকে শ্রীপুর ও ভেদুরিয়ার চক্রটির কাছ থেকে জমি বর্গা নেওয়া কৃষক মো. মোতাহার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তারা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন তরমুজ কাটার সময় হলেও জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তারা দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান চান। তবে অভিযুক্ত শ্রীপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান জমাদ্দার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো কার্ডধারীর জমি দখল করেননি। তাদের দাবি, তারা নিজেদের এবং সরকারি খাস জমি নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ভোলার কিছু লোক ভুয়া কার্ড তৈরি করে এতদিন জমি ভোগ করেছেন।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম জানান, এটি মূলত সীমানা বিরোধ। উভয় পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করলেও তাদের কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জমির জরিপ কাজ চলছে, জরিপ শেষে প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন