যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি, হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১৭:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১৭:৫৬ অপরাহ্ন
ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাজী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

এই যাত্রায় আর কোনো বাধা না এলে, প্রায় আড়াই মাস পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।

সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল।

জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “এখানকার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় আমরা জাহাজ নিয়ে রাস আল খাইর বন্দর ছেড়ে এসেছি। আমাদের জাহাজে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পার হবার জন্য জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানিও নেওয়া হয়েছে।”

জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এখন হরমুজ প্রণালি থেকে ৪০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছি।

“আমাদের জাহাজ ঘণ্টায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে আমরা হরমুজ অতিক্রম করতে পারবো আশা করি।”

‘বাংলার জয়যাত্রার’ পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে জানিয়ে হাসান বলেন, “চার্টার প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজ সেখানে যাবে। হরমুজের ভেতরে ও বাইরে কয়েক হাজার জাহাজ আছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হবার পরপরই অপেক্ষমান জাহাজগুলো হরমুজ পার হতে শুরু করেছে।”

এর আগে একবার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জাহাজটি পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

তখন আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই পথে না আগানোর পরামর্শ দিলে জাহাজটি আবার ফিরতে বাধ্য হয়।

ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে রাজি হওয়ায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরান সমঝোতায় না এলে এক রাতেই ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করার হুমকি দেবার পর পরিকল্পিত হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হন তিনি।

‘দ্বিতীয় জীবন পেলাম যেন আমরা’

পণ্যবোঝাই করে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের আগে আরব আমিরাতের জেবেলে আলী বন্দরে প্রবেশ করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জেবেল আলী বন্দরের টার্মিনালে অবস্থানের মধ্যেই বন্দরের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনাসহ সবমিলিয়ে ‘জয়যাত্রা’র নাবিকেরা এক প্রকার আতংকজনক পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করেছেন।

এই অবস্থায় যুদ্ধ বিরতি শুরু হওয়ায় বিএসসির জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এ অবস্থাকে ‘দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন সেখানকার নাবিকেরা।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “জেল থেকে মুক্তি পেলাম মনে হচ্ছে। দ্বিতীয় জীবন পেলাম যেন আমরা। নতুন গন্তব্যে রওনা দিয়েছি। আশা করছি ঠিক মতো হরমুজ ক্রস করতে পারবো।

চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলেন, “এতদিন ধরে আমরা সকলেই একটা মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এখন অনেকটাই মুক্ত অবস্থার মতো। সকলেই পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন।”

‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আসে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল।

সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।

ওই সময় আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জাহাজটিকে নিরাপদে সরে গিয়ে ঝুঁকির্পূণ এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই জাহাজটি শারজাহ বন্দরের জলসীমায় অবস্থান নিয়ে ছিল।

সবশেষ সেখান থেকে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরে ভিড়েছিল বাংলার জয়যাত্রা।

গত দুই মাসে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানকালে প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ থেকে মিসাইল বা ড্রোন হামলা দেখেছেন নাবিকরা।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :