'আমার টাকায় হজ করব, মন্ত্রণালয় বাধা দেওয়ার কে?'

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৫:১২:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:৫০:৩৩ অপরাহ্ন
টানা পঞ্চমবার পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) উন্নয়ন শাখা-২ এর ডেপুটি ম্যানেজার (অর্থ) মো. আবু কায়সার। তিনি বলছেন, হজ পালনের জন্য সংস্থা থেকে ছুটি পেলেও মন্ত্রণালয় তাঁকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার টাকায় আমি হজ করব, মন্ত্রণালয় বাধা দেওয়ার কে?

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তরফে মিলেছে ভিন্ন বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মো. আবু কায়সার পর পর তিন বছর মূল হজ ও এক বছর ওমরাহ পালন করেছেন। যেহেতু সৌদি সরকার প্রতিটি দেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করে দেয়, সেখানে একই ব্যক্তি বার বার হজ পালন করতে গেলে অন্য একজন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

জানা যায়, মো. আবু কায়সার ২০২২ সালে ওমরাহ হজ পালন করেন। ২০২৩ থেকে টানা তিনবার তিনি মূল হজ পালন করেছেন। এবারও তিনি হজ পালন করতে চান। কিন্তু মিলছে না বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি।

কোনো সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী ব্যক্তিগত বা সরকারি কাজে বিদেশ যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হয়। এই অনুমতিই সাধারণভাবে সরকারি আদেশ (জিও) হিসেবে জারি করা হয়। মো. আবু কায়সার তাঁর ছোট বোনের মাহরাম হিসেবে হজ পালনের জন্য চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৪৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন। যা ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করে বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠিয়েছিল জিওর জন্য। 

কিন্তু ১৫ মার্চ তাঁর ছুটি নামঞ্জুর করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা উপসচিব ফারজানা খানম স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, মো. আবু কায়সার এর আগে একাধিকবার পবিত্র হজ পালন করায় একই উদ্দেশ্যে পুনরায় বহি:বাংলাদেশ ছুটি ভোগের নিমিত্তে বিদেশ ভ্রমণের আবেদন নির্দেশক্রমে নামঞ্জুর করা হলো।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মো. আবু কায়সার মুঠোফোনে বাংলাস্কুপকে বলেন, আমি আমার টাকায় হজ পালন করব, সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কেন জিও দেবে না? তিনি বলেন, ওমরাহ করেছি ২০২২ সালে; ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মূল হজ পালন করেছি। চলতি বছরও হজ করতে চেয়েছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, হজ এজেন্সির কাছে টাকাও জমা দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি নামঞ্জুর করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মহোদয়ের কাছে সরাসরি আবেদন করি। আজকে পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর আবু কায়সারের চিঠি পাঠানোকে নিয়মের ব্যত্যয় উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ছুটির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর থেকেই তিনি দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। হজ পালন নিয়ে আবু কায়সারের এমনতর আচরণ রীতিমত 'সন্দেহজনক'। 

এ বিষয়ে কথা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. সবুর হোসেনের সঙ্গে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে তিনি বাংলাস্কুপকে বলেন, মো. আবু কায়সার এর আগে চারবার হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ বিভাগে জিও'র জন্য আবেদন এলে বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তখনই তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয় যে, এরপর তিনি আর জিও পাবেন না। তারপরও চলতি বছর হজ পালনের জন্য পুনরায় তিনি আবেদন করলে আমাদের সন্দেহ হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির তরফ থেকে জানানো হয়, আবু কায়সার এর আগে যতবার হজ করতে গিয়েছেন ততবারই তিনি কোনো না কোনো হজযাত্রী গ্রুপের গাইড হিসেবে গিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি বিনা খরচে হজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

সবুর হোসেন আরো বলেন, সৌদি সরকার প্রতিবছর প্রতিটি দেশের জন্য হজযাত্রীর সংখ্যা বেধে দিচ্ছে। আগ্রহীদের বিপরীতে সেই সংখ্যা খুবই কম। এমন অবস্থায় একজন ব্যক্তি প্রতিবছর হজ পালন করতে চাইলে আরেকজন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এমনও মানুষ রয়েছেন, সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুইবার আবেদন করার পর তৃতীয় বছরে গিয়ে হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে একজন সরকারি চাকরিজীবী কতবার হজ পালন করতে পারবেন, এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই বলেও জানান তিনি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :