বিপর্যয়ের পথে পর্যটনশিল্প

জ্বালানি সংকটে বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্টে কমেছে বুকিং

আপলোড সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০৩:০৬:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০৩:০৬:০৩ অপরাহ্ন
বান্দরবানে জ্বালানি সংকটে কমেছে হোটেল-রিসোর্টের আগাম বুকিংয়ের সংখ্যা। একই সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকবাহী গাড়ি ও বোট চালকরা। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়েই কমবেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড় কন্যা খ্যাত অপরুপা বান্দরবান। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সারাদেশের মতো বান্দরবানেও দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এতে জেলার হোটেল রিসোর্টগুলোতে যেমন আগাম রুম বুকিংয়ের সংখ্যা কমেছে, তেমনি জ্বালানি সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে হচ্ছে পর্যটকবাহী গাড়ি চালক ও পর্যটকদের। এ নিয়ে চরম বিপর্যয়ের পথের দিকে যাচ্ছে বান্দরবানের পর্যটনশিল্প।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাইকারদের চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। জেলা সদরে ৪টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও অধিকাংশ পাম্পেই জ্বালানি নেই। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অধিকাংশ সময় জ্বালানি না পেয়েই ফিরতে হয়। ফলে জেলায় বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী কয়েক হাজার চালক পরিবার নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছে। বান্দরবানের পর্যটকবাহী গাড়িচালক আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, বান্দরবানের পর্যটন শিল্প মূলত সড়ক ও নদীপথ নির্ভর। কিন্তু জ্বালানির অভাবে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে দূরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে নীলগিরি, বগালেক, কেওক্রাডংসহ জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে নির্ধারিত সময়ে পর্যটক পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেক চালকই দূরবর্তী রুটে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. এমরান বলেন, আসন্ন পাহাড়িদের সাংগ্রাই উৎসব ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি উপলক্ষ্যে যে বুকিং আশা করা হয়েছিল, তা এখন ৮০ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে পর্যটন মৌসুমেও ব্যবসা মন্দার আশঙ্কা করছেন তিনি। এতে এই খাতের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীরা আর্থিক সংকটে পড়বেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। ফলে সামগ্রিকভাবে জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

বান্দরবান জিপ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জহীর উদ্দীন মাসুম বলেন, জেলায় পর্যটকবাহী যে গাড়িগুলো রয়েছে এতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি চালক ও শ্রমিক যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যার অধিকাংশই পর্যটক নির্ভর। তবে দূরদূরান্তের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেতে যেখানে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়, সেখানে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ১০ লিটার পাওয়া যায়। যার ফলে দূরের এসব পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারছে না তারা। এতে আয় রোজগার কমে যাওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতিও কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চালকদের পর্যাপ্ত জ্বালানি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এস এম হাসান বলেন, বান্দরবানে অকটেন পেতে কিছুটা সমস্যার অভিযোগ পেলেও ডিজেল পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরও সমপরিমাণ ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি মজুতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :