সূর্যমুখীর হাঁসিতে বদলে যাচ্ছে নারীর জীবন

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শ্রমের ভয় নয় বরং কৃষিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটাতে কৃষকের পাশাপাশি এখন মাঠে ঘাম জড়াচ্ছেন উপকূলীয় কৃষাণিরা। আর লবণ সহিষ্ণু জমিতে আধুনিক পদ্ধতি নয়। কেবল দৃঢ় মনোবল ও সঠিক পরিচর্যাই হয়ে উঠেছে তাদের মূল লক্ষ্য। তাই চলতি রবি মৌসুমে এসব কৃষাণিদের হাতের স্পর্শে সূর্যের আদলে ফোটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। সৃজনশীল এসব উৎপাদনকারীরা বলছেন, পরিশ্রমকে জয় করেই প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন হবে তাদের।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পুরুষদের পাশাপাশি এখন নারীরাও ঘাম ঝড়াচ্ছেন ফসলের মাঠে। সম্প্রতি চলমান রবি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষে কৃষাণিদের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা তেল বীজের ক্ষেত জুড়ে এখন সম্ভাবনার হাতছানি। সূর্যের হাসিমাখা ফসলের মাঠে শ্রমিকের বদলে হাত চালাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, উৎপাদন শেষে পরিবারের তেল চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই সূর্যমুখী চাষ।

জানা গেছে, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিনে দিনে এই চাষ পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন নতুন কৃষাণিরা। কেবল কৃষানি নয়, দৃষ্টিতে অপলক সৌন্দর্যে ভরা এই ফসলের মাঠে এখন ভালো লাগার সময় দিচ্ছেন স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। এছাড়া রোগবালাই কম থাকায় এখন সূর্যমুখীর বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার চিন্তা করছেন ভিন্ন ফসল উৎপাদনকারীরা। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তাই কম উৎপাদন খরচে বেশি লাভের চিন্তায় পরিবেশবান্ধব সূর্যমুখী চাষকে বিকল্প চাষ বলছেন ১২ মাসি কৃষকরা।

টিয়াখালী ইউপির সিক্সলেন সড়ক এলাকার কৃষানি জেসমিন বেগম বলেন, ২০১৯ সালে প্রথম কৃষি অফিস থেকে বীজ এবং সার পেয়ে শখের বসে সূর্যমুখী ফুলের সামান্য আবাদ করি। কিন্তু চাষ এবং ফলন দেখে আমি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করি। এ মৌসুমেও অন্তত ৪ বিঘা জমিতে এর আবাদ করা হয়েছে। আশা করি, উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও প্রতি বিঘা জমিতে পনেরো হাজার টাকা লাভ হবে। মধ্য টিয়াখালী গ্রামের কৃষানি ঝুমুর বেগম বলেন, ভাইয়ের স্ত্রীর সূর্যমুখী চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হই। এরপরে গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এ বছরও দুই বিঘা জমিতে এই তেল বীজের চাষ করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হবে। মহিপুর সদর ইউপির বিপিনপুর গ্রামের মোহাম্মদ সুলতান জানান, গত ৮ বছর ধরে তেল বীজ উৎপাদন করছেন তিনি। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে বেশ লাভের মুখও দেখেছেন। তাই দিনে দিনে এই চাষ বৃদ্ধি করা হবে।

নীলগঞ্জ ইউপির কৃষক শাহ আলম জানান, চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। এ বছর সময় উপযোগী বৃষ্টিতে তার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ফুলের আকৃতি বড় হয়েছে। তাই কিছুটা বেশি লাভের আশা করছেন তিনি। কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলাপাড়ায় ২৮শ হেক্টর জমিতে এই সূর্যমুখী তেল বীজের আবাদ হয়েছে। যে-কোনো পরিবেশে চাষীদের পাশে থেকে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। সূর্যমুখী চাষে আদর্শ এলাকা হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলের নারী উদ্যোক্তারা আগ্রহী হয়ে সূর্যমুখীর আবাদ করছেন। এটি একটি সম্ভাবনার হাতছানি। এখন কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণিরা ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন। এসব কৃষাণিদের মধ্য থেকেই বড় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :