ভারী বর্ষণে তরমুজ ক্ষেতে পানি, দিশেহারা কৃষক

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ১১:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০১:২২:৩০ অপরাহ্ন
ভারী বর্ষলে তরমুজ ক্ষেতে পানি জমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কৃষকরা। মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে নিচু এলাকাগুলোর তরমুজ ক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আবাদ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকায় তরমুজ চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন উপজেলাজুড়ে আবাদ হচ্ছে তরমুজ। বিগত বছরগুলোতে সফলতার দেখা পেলেও এবার ভারী বর্ষণে কাংখিত লাভের আশা বাদ দিয়ে পূঁজি তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে দিশেহারা কৃষক।

উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বর্ষণে তরমুজ ক্ষেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজগুলোর একাংশ পানিতে ডুবে আছে। মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে ক্ষেত থেকে পানি বের করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও দেখা গেছে বিষন্ন মনে ক্ষেতের ধারে বসে আছেন কৃষক।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানলা, সাহেরখালী ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকরা মিরসরাইয়ে এসে তরমুজ আবাদ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কিছু কৃষকও তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে আবাদ হওয়া তরমুজের নিচু জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যদি পুণরায় বৃষ্টি হয় ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে এসে তরমুজ চাষ করেন মোহাম্মদ সোহেল রানা। তিনি জানান, গতবারের সফলতার আশায় এবারও তিনি মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে প্রায় ১২০ একর জমিতে গ্লোরি জাম্বু, বেঙ্গল কিং, ড্রাগন কিং ও গ্রীণ ড্রাগন জাতের তরমুজ আবাদ করেন। তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০ জন শেয়ারদারও যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু বৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, এখন কি করবে তা ভেবে দিশেহারা তারা।

উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে তরমুজ আবাদ করা কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘মহাজন, এনজিও ও শহরের আড়তদার থেকে আগাম টাকা নিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এবছর এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষেতে ভালো তরমুজ হয়নি। কঠোর পরিশ্রম করে যা ফলিয়েছি তাও এখন ভারী বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অবস্থা এমন হয়েছে পূঁজিটাও উঠবে না। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগিতা করতো বাঁচতে পারতাম।’

আরেক কৃষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এক দুই দিনের মধ্যে প্রথম দফা ফল কাটার প্রস্তুুতি নিচ্ছিলাম আমরা। ২-৩ ঘণ্টার টানা বৃষ্টি আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। কি করে দেনা শোধ করব সে চিন্তায় অস্থির লাগছে। লাভ করা তো দূরের কথা পূঁজি উঠবে কিনা সে চিন্তায় রয়েছি।’ এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাইয়ের বেশকিছু ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে তরমুজের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষকরা এখানে এসে জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ আবাদ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে তরমুজ চাষীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবাদ হওয়া ৭৫০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যেসব এলাকায় ক্ষেতের তরমুজ পুষ্ট হয়েছে চাষীরা সেসব তরমুজ দ্রুত বিক্রি করলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :