গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনগুলোতে দাঁড়িয়ে থেকেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় অনেক জমিতে সেচ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যা নিয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে, কৃষকরা যাতে পর্যাপ্ত তেল পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদার না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বেদগ্রাম এলাকার মিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রাম, বোতল আর বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ডিজেল পাওয়ার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে রয়েছেন কৃষকরা। কখন প্রয়োজনীয় তেল পেয়ে সেচ দিয়ে ফসল রক্ষা করবেন সেই চিন্তাই যেন তাদের চোখে মুখে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও কেউ চাহিদা মত তেল না পেয়ে আর কাওকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।
দীর্ঘ দিন ধরে জেলার ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। তেল সরবরাহে তীব্র সংকট ধারণ করায় কৃষি কার্ড দেখিয়েও চাহিদা মত তেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে জমিতে এক প্রকার সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় জমিতেই ধান নষ্ট হবার অশংকা করছেন তারা। যা পুরো মৌসুমকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বোরো ধান গাছে শীষ দেখো দিয়েছে। সেচ দিতে না পারলে এসব শীষ থেকে আসা ধান চিটা হবার আশংকা করছেন কৃষকরা। এতে ধান ও পাটের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জমি পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, যা পুরো মৌসুমকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে, ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকসহ সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা মত তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হওয়ায় তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, প্রতিদিন আমার কমপক্ষে ৫ লিটার তেল দরকার। গত ৫ দিন আগে মাত্র ১ লিটার তেল পেয়েছিলাম। এতে ৩/৪ দিন জমিতে সেচ দিতে পারিনি। আজ আবার ভোরে পাম্পে তেল নিতে এসেছি। কিন্তু ৩ ঘণ্টা হলেও তেল পাইনি। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমার জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে সারা বছর পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো আমি। অপর কৃষক শাহিন মোল্যা বলেন, তেলের অভাবে কয়েকদিন ধরেই ধানের জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি কৃষি কার্ড দিয়েও আমরা তেল পাচ্ছি না।
ব্লক ম্যানেজার আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, একটি একটি ব্লকের ম্যানেজার। প্রতিদিন আমাকে জমিতে সেচ দিতে হয়। প্রতিদিন আমার ১৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে ঘোরাঘুরি করে ২ বা ৩ লিটার তেল পাই তা দিয়ে কোনভাবেই জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া যায় না। ফলে বোরো ধানে শীষ আসলেও পানির অভাবে শীষ নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। জেলা শহরের নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজুনুর রহমান লফিজ বলেন, ইতোমধ্যে আমার পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। আর যে পরিমাণ ডিজেল আসে তা দিয়ে কৃষকদের চাহিদামত তেল দেয়া সম্ভব নয়। ফলে অনেক কৃষক চাহিদা মত তেল পাচ্ছেন না। যদি ডিপো থেকে চাহিদা মত তেল পাওয়া যায় তাহলে তেল বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, জেলায় ডিজেলের সংকট এখনো আসেনি। আর এখন বোরো মৌসুম চলছে। চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জে ৮২ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আর এখন জমিতে সেচ দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোনও কৃষক যদি তেল না পায় তাহলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ওই কৃষকের জমি রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে তেল দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদার না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বেদগ্রাম এলাকার মিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রাম, বোতল আর বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ডিজেল পাওয়ার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে রয়েছেন কৃষকরা। কখন প্রয়োজনীয় তেল পেয়ে সেচ দিয়ে ফসল রক্ষা করবেন সেই চিন্তাই যেন তাদের চোখে মুখে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও কেউ চাহিদা মত তেল না পেয়ে আর কাওকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।
দীর্ঘ দিন ধরে জেলার ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। তেল সরবরাহে তীব্র সংকট ধারণ করায় কৃষি কার্ড দেখিয়েও চাহিদা মত তেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে জমিতে এক প্রকার সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় জমিতেই ধান নষ্ট হবার অশংকা করছেন তারা। যা পুরো মৌসুমকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বোরো ধান গাছে শীষ দেখো দিয়েছে। সেচ দিতে না পারলে এসব শীষ থেকে আসা ধান চিটা হবার আশংকা করছেন কৃষকরা। এতে ধান ও পাটের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জমি পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, যা পুরো মৌসুমকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে, ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকসহ সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা মত তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হওয়ায় তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, প্রতিদিন আমার কমপক্ষে ৫ লিটার তেল দরকার। গত ৫ দিন আগে মাত্র ১ লিটার তেল পেয়েছিলাম। এতে ৩/৪ দিন জমিতে সেচ দিতে পারিনি। আজ আবার ভোরে পাম্পে তেল নিতে এসেছি। কিন্তু ৩ ঘণ্টা হলেও তেল পাইনি। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমার জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে সারা বছর পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো আমি। অপর কৃষক শাহিন মোল্যা বলেন, তেলের অভাবে কয়েকদিন ধরেই ধানের জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি কৃষি কার্ড দিয়েও আমরা তেল পাচ্ছি না।
ব্লক ম্যানেজার আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, একটি একটি ব্লকের ম্যানেজার। প্রতিদিন আমাকে জমিতে সেচ দিতে হয়। প্রতিদিন আমার ১৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে ঘোরাঘুরি করে ২ বা ৩ লিটার তেল পাই তা দিয়ে কোনভাবেই জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া যায় না। ফলে বোরো ধানে শীষ আসলেও পানির অভাবে শীষ নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। জেলা শহরের নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজুনুর রহমান লফিজ বলেন, ইতোমধ্যে আমার পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। আর যে পরিমাণ ডিজেল আসে তা দিয়ে কৃষকদের চাহিদামত তেল দেয়া সম্ভব নয়। ফলে অনেক কৃষক চাহিদা মত তেল পাচ্ছেন না। যদি ডিপো থেকে চাহিদা মত তেল পাওয়া যায় তাহলে তেল বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, জেলায় ডিজেলের সংকট এখনো আসেনি। আর এখন বোরো মৌসুম চলছে। চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জে ৮২ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আর এখন জমিতে সেচ দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোনও কৃষক যদি তেল না পায় তাহলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ওই কৃষকের জমি রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে তেল দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন