ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের জেরে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি খাত। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ খাতেও। জ্বালানির সংকটে বন্ধ হতে পারে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এমন বাস্তবতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি রয়েছে ভারত থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ছাড়িয়েছে ১১৬ ডলার। এই দামে তেল কিনেও তা আনা কঠিন হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়টি স্বীকার না করলেও জ্বালানি বিভাগ থেকে সরবরাহ চাপের কথা জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ক্লাস করার পরিকল্পনা চলছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, এখন সেচ মৌসুমের মাঝামাঝি। এর বাইরে গ্রীষ্মও শুরু হচ্ছে। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। তখন সংকট চরম আকার ধারণ করবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের পায়রা, রামপাল এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এর বাইরে আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সর্বোচ্চ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু, এখন সেটা বেড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও বছর শেষে এই ভর্তুকিকে যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে না।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানির বাজার অনেকটা স্থিতিশীল থাকার পরও ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ হাজার কোটি টাকায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ির এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ আমদানি (আদানিসহ), সরকারি কোম্পানিসমূহ ও পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘাটতির বিপরীতে বেসরকারি আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ন্যায় বিদ্যমান ভর্তুকি কাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে পিডিবিকে দেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১৭ মার্চ অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, “চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে সরকার নির্ধারিত ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাইরে এই ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। তবে, এখনও এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কোনও কিছু জানানো হয়নি। মূলত, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্যই এই ভর্তুকি আমরা চেয়েছি।”
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
এমন বাস্তবতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি রয়েছে ভারত থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ছাড়িয়েছে ১১৬ ডলার। এই দামে তেল কিনেও তা আনা কঠিন হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়টি স্বীকার না করলেও জ্বালানি বিভাগ থেকে সরবরাহ চাপের কথা জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ক্লাস করার পরিকল্পনা চলছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, এখন সেচ মৌসুমের মাঝামাঝি। এর বাইরে গ্রীষ্মও শুরু হচ্ছে। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। তখন সংকট চরম আকার ধারণ করবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের পায়রা, রামপাল এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এর বাইরে আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সর্বোচ্চ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু, এখন সেটা বেড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও বছর শেষে এই ভর্তুকিকে যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে না।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানির বাজার অনেকটা স্থিতিশীল থাকার পরও ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ হাজার কোটি টাকায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ির এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ আমদানি (আদানিসহ), সরকারি কোম্পানিসমূহ ও পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘাটতির বিপরীতে বেসরকারি আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ন্যায় বিদ্যমান ভর্তুকি কাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে পিডিবিকে দেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১৭ মার্চ অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, “চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে সরকার নির্ধারিত ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাইরে এই ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। তবে, এখনও এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কোনও কিছু জানানো হয়নি। মূলত, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্যই এই ভর্তুকি আমরা চেয়েছি।”
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে